DBC News
সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ৩ দিনের সন্তান রেখেই গৃহবধূর মৃত্যু

সিজারের পর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ৩ দিনের সন্তান রেখেই গৃহবধূর মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ভুল চিকিৎসায় আমান্তিকা নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক ভাঙচুর করেছে রোগীর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। সোমবার দুপুরে, উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায়, রোগীর স্বজনরা ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘটনার পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রোগীর স্বজনদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড় সাদিপুর গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী আমান্তিকা গর্ভবতী হলে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার বিকেলে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার সোনারগাঁও জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা.নূরজাহান বেগম ওইদিনই রোগীকে সিজার করার পরামর্শ দেন। পরে, তিনি নিজেই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিজার করান। এ সময়, আমান্তিকা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন।

তাড়াহুড়া করে সিজার করার পর আমান্তিকার পেটে গজ কাপড় রেখেই ডা. নূরজাহান কাটা স্থান সেলাই করে দেন। সিজারের পর থেকেই রোগীর অনবরত বমি হতে থাকে এবং পেট ফুলে যায়। এতে, পুনরায় ওই ডাক্তারের কাছে গেলে তিনি রোগীকে নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসক নূরজাহান কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় ওই রোগীর সিজার করিয়ে জরায়ু কেটে ফেলেন।

রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে কেয়ার হাসপাতাল থেকে ঢাকার গেণ্ডারিয়া আজগর আলী মেডিক্যাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর, সোমবার ভোরে গৃহবধূ আমান্তিকা মৃত্যু হয়।

পরে, রোগীর বিক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিকে ভাঙচুর চালালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়।

এদিকে, এ ঘটনায় আমান্তিকার স্বামী পিন্টু মিয়া জানান, চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। তিনদিনের মাথায় আমার কন্যা তার মাকে হারিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে দোষী চিকিৎসককে গ্রেপ্তার  করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করেছেন।

আর নিহতের বাবা সোহেল মিয়া বলেন, শুক্রবার মেয়েকে জরুরি সিজারের পরামর্শ দিয়ে বলেন সিজার না করালে মা ও পেটের সন্তান মারা যাবে। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী আমরা সিজারের সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু, ওইদিন চিকিৎসক নূরজাহান আরও ৪টি সিজার করেন। পাশাপাশি রোগীদের দীর্ঘ লাইন। তাই তাড়াহুড়া করতে গিয়েই সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই করায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তি চাই।