DBC News
আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম চড়া

আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম চড়া

আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ায় স্বর্ণের বিক্রি কমেছে। আর, দফায় দফায় দাম বাড়ায় স্বর্ণের বিক্রি একেবারেই কমে গেছে রাজধানীর বাজারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বিত দর নির্ধারণের কথা বললেও বিদেশি বাজারগুলোর তুলনায় দেশে এখনও  স্বর্ণের দাম কয়েকগুণ বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই চড়া বাজারমূল্যের যৌক্তিকতা খুঁজে দেখা দরকার।

চলতি বছরে দেশে এখনও পর্যন্ত ৭ দফায় বেড়েছে স্বর্ণের দাম। আর চলতি মাসেই স্বর্ণের দাম বেড়েছে তিনবার। গেল, জানুয়ারিতে দেশে ২২ ক্যারেট প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ৪৮ হাজার ৯৮৮ টাকা। যা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকায়।

রাজধানীর বায়তুল মোকারমের স্বর্ণ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর সবসময় বাজার জমজমাট থাকলেও এবার চড়া দামের ধাক্কায় বিক্রি নেই বললেই চলে। এ সময়, মার্কেট ঘুরে অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস, প্রতিবারই আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে দর নির্ধারণের কথা বললেও তা হয়নি। বিদেশি বাজারদরের তুলনায় দেশে এখনও স্বর্ণের দাম অনেকগুণ বেশি।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম যুক্তরাজ্যে ৪০.৬৩ ডলার, চীন-৪৪.০৭ ডলার, সৌদি আরব-৪৪.০৯ ডলার, সিঙ্গাপুর-৪৫.৩৫ ডলার, দুবাই-৪৬.২৮ ডলার, যুক্তরাষ্ট্র-৪৮ ডলার, ভারতে ৪৯.৯৩ ডলার এবং বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে ৫৭.৭১ ডলারে।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা। বিআইডিএস এর জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ প্রশ্ন তুলে বলেন, 'স্বর্ণের দাম কি করে সব দোকানে একরকম হয় এবং সেটা কেন আন্তর্জাতিক বাজারের থেকে বেশি। সমিতি বা একটা ব্যবসায়ী গ্রুপ আছে তারা যেহেতু স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছেন সুতরাং এখানে আসলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে যেভাবে মূল্য নির্ধারিত হয় স্বর্ণের ক্ষেত্রে সে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ হচ্ছে না।'

তবে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্বর্ণ কেনা, গহনা তৈরির মজুরি ও আনুষাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে খুব বেশি মুনাফার সুযোগ নেই। বাজুসের সাবেক সভাপতি বলছেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী আমদানি শুরু হলে দাম কমবে স্বর্ণের।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাবেক সভাপতি ডা. দিলীপ রায় বলেন, 'মধ্যসত্বভোগীরা যদি না থাকে এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী যদি ডিলারশিপের মাধ্যমে স্বর্ণ বিক্রি করা যায় তাহলে বর্তমান সময়ের থেকে কম দামে পাওয়া যাবে।'

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ব্যবসায়ীরাই ডিলার হিসেবে স্বর্ণ আমদানি করলে, তার সুফল ভালো হবে না।

ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এখন তো অনেক স্বর্ণ ব্যবসায়ী আছে। আর যদি অল্পসংখ্যক স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ দেয়া হয় তাহলে দেখা যাবে স্বর্ণের অলংকার ব্যবসায়ীরাই সেখানে অংশ নিচ্ছেন।' তাই ডিলারশিপ দিয়ে কাজ হবে না বরং ফল উল্টো হবে বলেই মনে করেন নাজনীন আহমেদ।

তবে, স্বর্ণ আমদানি কবে শুরু হবে সেই তথ্য নেই বাজুসের কাছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার আশংকা অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুন

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ত্রিদেশীয় সিরিজের চট্টগ্রাম পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ে। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে...

'কাউন্সিলের জন্য ১১টি উপকমিটির খসরা তৈরি করা হয়েছে'

জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি হিসেবে ১১টি উপকমিটির খসরা করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ক্রমে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কা...

ডিএসইতে ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন

গত ৩৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। সেইসাথে কমেছে লেনদেনও।প্রধান সূচক ৪০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৮৮ পয়েন্টে। যা ২০১৬'র ১২ই ডিস...

'পদ্মাসেতু উদ্বোধনের দিনই চলবে ট্রেন'

২০২১ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সময়ই ট্রেন চলাচল চালু করার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। মঙ্গলবার, সকালে রেলভবনে চীন সফর নিয়ে সংব...