DBC News
মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে ফেলে রেখে পালালেন মা

মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েকে ফেলে রেখে পালালেন মা

এক মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে রেখে পালিয়েছেন তার মা। অভিভাবক না থাকায় তাকে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি পাবনা মানসিক হাসপাতালে। তার ঠাঁই হয়েছে মানসিক হাসপাতালের পাশে অবস্থিত শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুলচন্দ্রের আশ্রমের বারান্দায়। মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে নিয়ে চরম বিপাকে পরেছে আশ্রম কতৃপক্ষ।

পাবনা মানসিক হাসপাতালে দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানসিক রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসে। অনেকে প্রথম দিন ভর্তি হতে না পেরে রাত্রিযাপনের জন্য আশ্রয় নেন হাসপাতালের পাশে শ্রী শ্রী অনুকূলচন্দ্রের সৎসঙ্গ আশ্রমে। তেমনই একজন পাবনার হেমায়েতপুর সৎসঙ্গ আশ্রমের বারান্দায় চুপচাপ শুয়ে থাকা এই যুবতী। পায়ে শেকল বাঁধা মেয়েটি তার নাম বলছে রুপনা কখনো বলছে লুবনা।

প্রায় ২মাস আগে মায়ের সাথে মানসিক হাসপাতালে এসেছিল ডাক্তার দেখাতে । সে রাতে আরও অনেকের মত তারাও অবস্থান করেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের পাশেই অবস্থিত শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গ আশ্রমে। ভোরের আলো ফুটতেই জরুরি কাগজ আনার কথা বলে মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েটাকে ফেলে রেখে চলে যায় তার মা। তারপর থেকে মেয়েটির ঠাঁই হয়েছে আশ্রমের বারান্দায়।

১৮ থেকে ২০ বছরের এই তরুণীকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আশ্রম কর্তৃপক্ষ। এবারই প্রথম নয়, অতীতে বহুবার ঘটেছে এমন ঘটনা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের বোঝা ভেবে এভাবে ফেলে রেখে যায় স্বজনরা। এই অমানবিক কাজ করা স্বজনদের শাস্তির দাবি জানান সাধারণ মানুষ।

এভাবে ফেলে যাওয়ার ঘটনাকে অমানবিক বলে আখ্যায়িত করেছেন পাবনা মানসিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. তন্ময় প্রকাশ।অতীতে মানসিক হাসপাতালের ভুল ঠিকানা ব্যবহার করে বহু রোগীকে রেখে যাওয়ায় বর্তমানে প্রকৃত অবিভাবক ছাড়া রোগীকে ভর্তি নেয়া হয়না বলে জানান তিনি। তবে, কখনও কখনও সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে রোগীর অভিভাবক ঠিক করে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও জানান ডা. তন্ময় প্রকাশ।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মানসিক ভারসাম্যহীন তরুণীকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা কথা জানান জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি তার পরিবারকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ।

মানসিক রোগ অন্যান্য সাধারণ রোগের মতোই। তাই পরিবারের বোঝা না ভেবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এর জন্য পারিবারিক সমর্থন ও দায়বদ্ধতা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।