DBC News
ভালোবাসার জয়, অবশেষে মুক্তি পেলেন তুষার

ভালোবাসার জয়, অবশেষে মুক্তি পেলেন তুষার

ভালোবেসে বিয়ে করা সেই তুষার দাস জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার ৬ দিন পর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন হরিজন সম্প্রদায়ের যুবক তুষার দাস।

এ সময় কারাগারের ফটকে স্ত্রী সুষ্মিতা ও একমাত্র শিশু সন্তান উপস্থিত ছিলেন। হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলে হয়ে ব্রাহ্মণ মেয়ে সুস্মিতাকে ভালোবেসে বিয়ে করার পর অপহরণের অভিযোগ এনে তুষারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা করেন তার শাশুড়ি। পরে ধর্ষণের মামলায় খালাস পেলেও অপহরণের মামলায় ১৪ বছর কারাদণ্ড হয় তুষারের। 

পরবর্তীতে এই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তুষার। গত ১লা আগস্ট হরিজন তুষার দাস হাইকোর্টে জামিন পান এবং একই সঙ্গে তার ২০ হাজার অর্থদণ্ড স্থগিত করেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।

২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর তুষার দাস ও সুষ্মিতা দেবনাথ অদিতি বিয়ে করেন। শুরু থেকেই এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি সুস্মিতার পরিবার। দুইদিন পর অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন অদিতির মা। মামলার জবানবন্দিতে অদিতি তাকে অপহরণ করা হয়নি বরং তারা ভালোবেসে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন।

মামলার পর আদালত সুষ্মিতাকে সেফ হোমে, আর তুষারকে পাঠায় কারাগারে। পরে বয়স বিবেচনায় শরিয়তপুরের কিশোর আদালত তুষারকে জামিন এবং সুম্মিতা সেফ হোম থেকে নিজ জিম্মায় দেন। মামলাটি পাঠিয়ে দেয়া হয় শরিয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে।

মামলার শুনানি করে শরিয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা জজ আ. ছালাম খান তুষারকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপরই তুষারকে নেওয়া হয় কারাগারে।

পরবর্তীতে এই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন তুষার। এরপর থেকেই স্বামীকে কারামুক্ত করতে তিন মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে হাইকোর্টে আসেন সুষ্মিতা।