DBC News
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই গত ১০ বাজেটের বড় অর্জন

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাই গত ১০ বাজেটের বড় অর্জন

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে দারিদ্রতা কমানোই আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক ১০ বাজেটের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গত দুই মেয়াদে বেড়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মাথাপিছু আয়ও। কিন্তু, আর্থিক খাত সংস্কারে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। সেইসঙ্গে, বৈষম্য না কমায় উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেয়া যায়নি। আওয়ামী লীগের ১০টি বাজেটকে এভাবেই বিশ্লেষণ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

আবুল মাল আব্দুল মুহিত আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। সে বাজেটের আকার ছিল মাত্র ১ লাখ ১৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। ১০ বছরে সে বাজেট বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ। শুধু বাজেটের আকার নয়, এ সময়ের মধ্যে প্রবৃদ্ধিও বেড়েছে বহুগুণ। চলতি অর্থবছর শেষে যা ৮ শতাংশের বেশি হবে বলে আশা করছে সরকার। মাথাপিছু আয় বেড়েছে পোনে তিনগুণ। সরকারকে সেজন্য সাধুবাদও দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, 'বাজেটের যে অবদান ও প্রত্যাশা সেটা পূরণ হয়েছে। তবে, বাজেটে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা ছিলো না। আর, আপেক্ষিক বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে কর ব্যবস্থার একটা ভূমিকা থাকে। সেটা, ব্যক্তি আয়কর বা কর্পোরেট আয়কর যাই হোক না কেন, এখানে কিন্তু কোনো সংস্কার হাতে নেয়া হয়নি।'

এসব অতৃপ্তির পেছনে প্রত্যাশিত সংস্কার না হওয়াকে দোষারোপ করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, '২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বাজেট ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার ক্ষেত্রে যে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা ছিল সেটা ক্রমান্বয়ে চলে গেছে। অর্থনৈতিক নীতিমালার ক্ষেত্রে নির্মোহভাবে ও সাহসিকতার সাথে যে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল অর্থমন্ত্রণালয় সে ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে নির্জীব হয়ে গেছে। উদ্যোগহীনতার ফলে আর্থিক খাতগুলোতে যথাযথ সংস্কারত হয়নি।

এসব ঘাটতি মোকাবেলা করে আগামী অর্থনীতির পথ মসৃণ করতে সুশাসনের বিকল্প নেই।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ড. শফিক উজ জামান চেয়ারম্যান বলেন, 'অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশ হতে পারে। আবার এর সঙ্গে বেকার সমস্যাও সমানতালে চলতে পারে। তবে, আমরা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে প্রবৃদ্ধি সেটা অর্জন করতে পারিনি। অন্যদিকে, দেশে কেনো বিনিয়োগ হচ্ছে না সেটা আমাদের দেখতে হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'ব্যাংকের টাকা নিয়ে যদি কেউ ফেরত না দিয়েই মুক্তি পায়, তাহলে তো বিনিয়োগ করবেই না। কোনো একটা প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট অর্থে কেনো বাস্তবায়ন হচ্ছে না এর জন্য কাউকে আজ পর্যন্ত জবাবদিহি করতে হয়নি।' যেখানে দুর্নীতি ও প্রবৃদ্ধি একসঙ্গে চলে সেখানে বৈষম্য বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন ড. শফিক উজ জামান।

সরকারের নেয়া নীতি ও কৌশলের সর্বোচ্চ সুফল পেতে, বাজেট বাস্তবায়নে জোর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন

ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেপ্তার

নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর মামলায় আসামি সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার...

নয়াপল্টনে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি

নয়াপল্টনে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আজকেও ২ ঘন্টার অবস্থা কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির একাংশ। রবিবার বেলা ১১ টায় দলের কেন্...

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ

ভারতের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা বা জিএসপি তুলে নেয়ার জবাবে ২৮টি মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে ভারত। শনিবার ভারত ওই ২৮টি পণ্যে শুল্ক বাড়া...

বাজেটে ৭ মেগা প্রকল্পে এডিপির ১৮ শতাংশ বরাদ্দ

প্রস্তাবিত বাজেটের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রায় সাড়ে ১৮ শতাংশ ব্যয় হবে সরকারের ৭টি মেগা প্রকল্পে। যা টাকার অংকে প্রায় ৩৭ হাজার ৬৯ কোটি টাকা।  তবে প্রস্তা...