DBC News
সুইসাইড নোট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

সুইসাইড নোট লিখে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছেন রাজশাহীর মোহনপুরের অপহরণের শিকার স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া আকতার বর্ষা। আসামীর স্বজনদের অপমান জনক আচরণ সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার আত্মহত্যা করে বর্ষা। এ ঘটনায় পুলিশ তিন আসামীকেও গ্রেফতার করেছে। 

‘প্রিয় বাবা মা আমি আমার লজ্জার কথা সবার কাছে বলতে বলতে ছোট হয়ে গেছি। আমি আর পারছিনা। তোমরা আমাকে ক্ষমা করো।' সুইসাইড নোট এ কথা লেখে বর্ষা। এ ঘটনায় ১৩ জনকে আসামী করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা নিয়েছে পুলিশ। 

সুমাইয়া আকতার বর্ষা বাকশিমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন। সে মোহনপুর উপজেলা সদরের আব্দুল মান্নান চাঁদের কন্যা। 

গত ২৩শে এপ্রিল বর্ষাকে অপহরণ করে প্রতিবেশি আনিস উদ্দিনের ছেলে, কলেজ ছাত্র মুকুল। প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যার্থ হয়ে মুকুল বর্ষার এক বান্ধবীর সহযোগতিায় তাকে অপহরণ করে।

একই দিন বিকেলে মোহনপুরের খানপুর বাগবাজার এলাকা থকেে অচেতন অবস্থায় তাকে পড়ে থাকতে দেখে এলাকার লোকজন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মোহনপুর উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করা হয়।

গত ২৭শে এপ্রিল মুকুল ও সোনিয়সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামী করে মোহনপুর থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন বর্ষার বাবা। পুলিশ এ ঘটনায় মুকুল ও সোনিয়াকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।

এদিকে, মামলার পর থকেে বর্ষাকে উত্যক্ত করে আসছিল ও হুমকি দিচ্ছিল মুকুলরে স্বজনরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে বর্ষা পুকুরে গোসল করতে গেলে মুকুলের পরিবারে লোকেরা তাকে গালিগালাজ করে বলে বাড়ীতে এসে জানায় র্বষা।

ওই দিন বিকেলে শোবার ঘরে গলায় ওড়না প্যেচিয়ে আত্মহত্যা করে সে। পরে পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ এবং তার লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার করে।

মোহনপুর থানার ওসি আবুল হোসেন বলেন, পুলিশ এঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা নিয়েছে। বর্ষার বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। ঘটনার পর পুলিশ তিনজনকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আসামী মুকুলের নানি সখিনা বেগম, খালু আব্দুর রহমান, খালাতো ভাই রাব্বী।

এদিকে, শুক্রবার স্কুল ছাত্রী বর্ষার লাশ ময়না তদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।