DBC News
ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতরা

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতরা

সম্মেলনের এক বছর পর গঠিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে অন্তত ৫০জন বিতর্কিত নেতাকর্মী জায়গা পেয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে বিবাহিত, চাকরিজীবী, বয়সসীমা পার করা, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভিযুক্ত, হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মামলার আসামি রয়েছে। এদিকে, বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বাদ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সম্মেলনের এক বছর পর ঘোষিত ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন সাবেক ও নতুন কমিটিতে থাকা অন্তত ৫০ নেতা। বিতর্কিতদের বাদ দেয়ার এ দাবিতে যুক্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ও বিভিন্ন হলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পদবঞ্চিত আরও অন্তত ৪০ জন।

পদ বঞ্চিতরা অভিযোগ করে বলেন ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের সঙ্গে অনেক পদই সাংঘর্ষিক। বিবাহিত ২২ জনকে এই কমিটিতে পদায়ন হয়েছে। এছাড়া কোনো কমিটিতে না থেকেই সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেয়েছেন ৬৯ জন।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫-এর 'গ' ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তির ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকতে না পারলেও সহ-সভাপতি সোহানী হাসান তিথি, সহ-সম্পাদক আঞ্জুমানারা অনু, সামিহা সরকার সুইটিসহ আরও অনেকেই বিবাহিত বলে জানা গেছে।

এছাড়া সহ-সভাপতি বিএম শাহরিয়ার হাসান সৃজন ভূঁইয়া অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা। আরেক সহ-সভাপতি এসএম হাসান আতিক ৩৯তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত। উপ গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন জসীম এখন পুরোদস্তুর সাংবাদিক।

অন্যদিকে, সহ সভাপতি শেখ আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। আরেক সহ সভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত।

কমিটি নিয়ে আপত্তি তোলা নেতারা বলছেন, 'এতে পদ পাওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা চান, বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গঠণতন্ত্র অনুযায়ী ত্যাগী নেতাদের কমিটিতে রাখা হোক।' পদবঞ্চিত এক কর্মী বলেন, 'আমরা অনেক কষ্ট করে রাজনীতি করি। কিন্তু, নেত্রী ছাড়া আমাদের দেখার মতো কেউ নেই।'

তবে, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে অন্যতম জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, ছাত্রলীগে ত্যাগী নেতাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, 'বিবাহিত, বয়স শেষ হয়েছে বা মাদকসেবী কেউ আছেন এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।' তিনি আরও বলেন, 'যাদের ব্যাপারে অভিযোগ আসছে তাদের নামে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের কমিটি থেকে বাদ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে, কমিটিতে শূন্যস্থান পূরণ করতে নতুনদের স্থান দেয়া হবে।'

কমিটি নিয়ে আপত্তি তোলা ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, কমিটি গঠনে দেরি করা এবং সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাবেই বিতর্কিতরা কমিটিতে জায়গা পেয়েছে।