DBC News
'নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী নামানো হবে'

'নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী নামানো হবে'

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৭ থেকে ১০ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।

ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনের এক সপ্তাহ বা দশ দিন আগে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হবে। তাদের জন্য থাকার ব্যবস্থা থাকতে হবে, সে অনুযায়ী আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

তিনি বলেন, 'নির্বাচন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে যথা-প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের 'এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার' বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।'

তিনি বলেন, 'সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর। তাই নির্বাচনের সময় যেন কোনও বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য নির্বাচনের আগে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।' সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিজিবি'ও এ সময় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচনের সময় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, 'দায়িত্ব পালনে কেউ অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।'

এ সময় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, 'জনগণের দেয়া ভোটের পরিবর্তে জবরদখল করে যারা ক্ষমতায় আসতে চায় তাদেরকে আইনানুগভাবে প্রতিহত করা হবে।'

তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ভাবমূর্তি প্রতিফলিত হয়। তাই কেউ নির্বাচন নস্যাৎ করে, কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইলে, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মাহবুব তালুকদার।

রাজনৈতিক দলগুলোর এবারের সংলাপের পর, আসছে নির্বাচনে সুস্থ পরিবেশ থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সংসদ নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়ে এলেও নির্বাচন কমিশন তাতে সাড়া দেয়নি।

গত ৮ই নভেম্বর প্রথম দফা তফসিল ঘোষণার দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, 'এবার সেনা মোতায়েন হবে আগে মতোই। অর্থাৎ সেনাবাহিনীর বিচারিক ক্ষমতা থাকবে না।' তিনি বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসঙ্কে যথা-প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের ‘এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।’

বাংলাদেশে এর আগের প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনেই সেনা মোতায়েন হয়েছে। ভোটের মাঠে সেনাসদস্যরা বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতেই নিয়োজিত থাকেন।
২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি এবং ২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছিল। 

 

আরও পড়ুন

জাতীয় প্রেস ক্লাব নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির জয়

জাতীয় প্রেস ক্লাব নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির জয়লাভ করেছে। মোট ১৭ টি পদের মধ্যে ১৪টিতেই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের প্রার্থী জয়ী হন। জাতীয় প্রেস ক...

'মাহবুব তালুকদার সত্য কথা বলেননি'

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই—নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের করা এ মন্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। মঙ্গলবা...

'বিএনপির ইশতেহার প্রতিশ্রুতির বেলুন'

বিএনপির ইশতেহার প্রতিশ্রুতির রঙিন বেলুন। যদি তারা ক্ষমতায় আসে সঙ্গে সঙ্গে তা চুপসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার ক...

'মাহবুব তালুকদার সত্য কথা বলেননি'

নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই—নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের করা এ মন্তব্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। মঙ্গলবা...