DBC News
'ক্ষমতা হারানোর জ্বালা থেকেই মনগড়া কথা বলছেন সিনহা'

'ক্ষমতা হারানোর জ্বালা থেকেই মনগড়া কথা বলছেন সিনহা'

ক্ষমতা হারানোর জ্বালা থেকেই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মনগড়া কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার সকালে, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা তার নতুন বইয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন তা মনগড়া বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

বিচারপতি সিনহা ক্ষ্মতায় থাকা অবস্থায় কেন এসব সত্য বলেননি - এমন প্রশ্ন তুলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'এখন যা বইতে বলছেন, তখন প্রধান বিচারপতি থাকা অবস্থায় এসব সত্য বলার সাহস কেন একজন বিচারপতির ছিলো না? এখন বিদায় নিয়ে কেন পুরোনো কথা নতুন করে বলছেন! সত্য কথা দেশে ফিরে এসে জনগণের মধ্যে বলছেন না কেন?'

ওবায়দুল কাদের বলেন, 'কী পরিস্থিতে তিনি সাবেক হয়েছেন, তা সবাই জানে। তার কথা বিশ্বাস করার কোন যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রসঙ্গত; গতকাল বুধবার, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি বাংলা বিভাগের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার আত্মজীবনীমূলক বই 'আ ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি'-তে এস কে সিনহা দাবি করেছেন, 'তিনি হুমকির মুখে দেশ ত্যাগ করেছেন। একই কারণে বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।'

'২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে রায় দেয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগ করতে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়াকে ওই রায়ের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। আর তারপর যা ঘটেছে, তাকে বিচারপতি সিনহা বর্ণনা করেছেন ‘নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে। 

৬১০ পৃষ্ঠার এই বইটি অ্যামাজনের কিন্ডেল সংস্করণে বিক্রি হচ্ছে। বইয়ের কিছু অংশ অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বিচারপতি সিনহা বইয়ের ভূমিকায় লিখেছেন, '১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনে যুক্ত থাকার সুবাদে এর রূপান্তর এবং বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাগুলো দেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সিলেটের নিম্ন আদালতের একজন আইনজীবী হিসেবে শুরু করে বাংলাদেশের বিচারালয়ের শীর্ষ অবস্থানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনের সৌভাগ্য হয়েছে তার।'

“কিন্তু ২০১৭ সালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পক্ষে ঐতিহাসিক এক রায় দেয়ার পর বর্তমান সরকার আমাকে পদত্যাগ করতে এবং নির্বাসনে যেতে বাধ্য করে।”

বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে দেয়াকে ওই রায়ের মাধ্যমে অবৈধ ঘোষণা করে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। আর তারপর যা ঘটেছে, তাকে বিচারপতি সিনহা বর্ণনা করেছেন ‘একটি নজিরবিহীন ঘটনা’ হিসেবে।


০০