DBC News
শোলাকিয়া হামলা মামলায় চার্জশিট দাখিল

শোলাকিয়া হামলা মামলায় চার্জশিট দাখিল

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে জঙ্গি হামলার মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে, জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ উপলক্ষ্যে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক বলেন, হামলার পরিকল্পনা কোথায় হয়েছিল, কারা টাকার যোগান দিয়েছিল এবং কোথা থেকে অস্ত্র এসেছিল সবই চার্জশিটে উঠে এসেছে। 

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, কিশোরগঞ্জ শহরের তারাপাশা এলাকার জাহিদুল হক তানিম, গাইবান্ধার রাঘবপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, চাপাইনবাবগঞ্জের হাজারদিঘা গ্রামের মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, গাইবান্ধার পান্থাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও কুষ্টিয়ার সাদিপুর কাবলিপাড়া গ্রামের আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ।

এ মামলার মোট ২৪ জন আসামি ছিল। এর মধ্যে ১৯ জন জঙ্গি হামলা চালাতে গিয়ে পুলিশের অভিযানে অথবা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বিভিন্ন সময় মারা যায়। তাই তাদের অব্যাহতি দিয়ে জীবিত পাঁচজনকে মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়। বর্তমানে তারা কারাগারে আটক রয়েছেন।

প্রসং্গত,  ২০১৬ সালের ৭ই জুলাই ঈদের দিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে শোলাকিয়া ঈদগাহের কাছে আজিমউদ্দিন হাইস্কুল সংলগ্ন রাস্তায় মুফতি মুহাম্মদ আলী মসজিদের কাছে পুলিশের একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা চালায় অস্ত্রধারী জঙ্গিরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে জঙ্গিদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ সময় পুলিশের দুই কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হককে হত্যা করে জঙ্গিরা। আহত হয় পুলিশের অন্তত ৮ সদস্য।

পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ঘটনাস্থলে নিহত হয় আবির রহমান নামে এক জঙ্গি। আহত অবস্থায় আটক করা হয় শফিউল ইসলাম ডন নামে এক জঙ্গিকে। পরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে  সেও মারা যায়। ঘটনার সময় নিজের ঘরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গৃহবধূ ঝর্ণা ভৌমিক।

২০১৬ সালের ১০ই জুলাই নিরাপত্তা চৌকিতে দায়িত্ব পালনকারী পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সামসুদ্দীন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। আটক জাহিদুল হক তানিম ও শীর্ষ জঙ্গি শফিউল ইসলাম ডনসহ অজ্ঞাতনামা জঙ্গিদের এ মামলার আসামি করা হয়। আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।