DBC News
ঢাবি ভিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাবি ভিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ না নেয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আক্তারুজ্জামানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্য দুইজন হলেন প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানি ও ট্রেজারার ড. কামাল উদ্দিন।

বুধবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরশেদ এই মামলা দায়ের করেন। তিনি জানান, আগামী রবিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হতে পারে।

মনজিল মোরসেদ বলেন, 'গত ১৭ই জানুয়ারি হাইকোর্টের নির্দেশে ৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময়ের মধ্যে নির্বাচন না দেয়ায় সংশ্লিষ্টদেরকে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। কিন্তু সে নোটিশের কোনো জবাব না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়।'

আগামী রবিবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।

এর আগে গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ তিনকে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয় ৭ দিনের মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তিনজনের বিরুদ্ধে হাইকার্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে। 

ডাকসু নির্বাচনে পদক্ষেপ নিতে ৩১ শিক্ষার্থীর পক্ষে ২০১২ সালের ১১ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রক্টর ও ট্রেজারারকে লিগ্যাল নোটিশ দেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশের কোনো জবাব না দেয়ায় ২০১২ সালে ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে রিট আবেদন করা হয়।

এরপর একই বছরের ৮ই এপ্রিল হাইকোর্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরকে বিবাদী করা হয়।

পরে চলতি বছরের ১৭ই জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচন ৬ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ আদেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ডাকসু নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯০ সালের ৬ই জুলাই ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।