DBC News
ঋণে সুদ সুবিধা পাচ্ছে না এসএমই খাত

ঋণে সুদ সুবিধা পাচ্ছে না এসএমই খাত

জুলাই থেকে শিল্প ঋণে ব্যাংকের সুদের হার ৯ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারিখাতের উদ্যোক্তারা সে সুবিধা পাচ্ছেন না।

বিনিয়োগকারিদের অভিযোগ, বড় উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকের বিশেষ সুযোগ থাকলেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন এই সুবিধা থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য বলছে, ব্যাংকঋণের সুদহার সবার জন্য সমান প্রযোজ্য।

ছোট্ট একটি ঘরে মাত্র চারটি সেলাই মেশিন নিয়ে চলছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বাংলার রঙের স্বত্তাধিকারী পার্থ সারথী আচার্য্যর এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। স্বপ্ন চার দেয়ালের এই ছোট্ট কারখানা থেকে একদিন আকাশ ছোঁয়ার। কিন্তু ব্যাংক ঋণের সুদের হার এবং ঋণ পাওয়ার জটিলতায় বুঝি অধরাই থেকে যাবে তার বড় হওয়ার স্বপ্ন।

এ বিষয়ে বাংলার রঙের স্বত্তাধিকারী পার্থ সারথী আচার্য্য বলেন, নতুন ঋণের জন্য যাওয়ার পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নানান কিছু বলছে। সময় বা টাইমফ্রেমসহ যে সুবিধা পাওয়ার কথা তা পাওয়া যাচ্ছে না।' এছাড়া সুবিধা এবং অসুবিধা সব কিছু মিলিয়ে এটা আর ৯ শতাংশে থাকছে না বলেও জানান পার্থ সারথী আচার্য্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গেল জুলাইতে ৩৮টিরও বেশি ব্যাংকের এসএমই খাতে টার্ম লোনের সুদের হার ছিল ৯ শতাংশের ওপরে। যদিও শিল্পখাতে ঋণের সুদহার হওয়ার কথা ৯ শতাংশ বা তার নিচে। এসএমই খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ সরকার তাদের নিয়ে ভাবেন না।

এসএমই ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান বলেন, 'বাস্তবতা হলো এসএমই খাতকে বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতার মধ্যে ফেলা হয় এবং বিভিন্ন শর্তের আবর্তে ফেলে এই খাতে ঋণ দেয়া হয়না।'

এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, '৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়ন করা উচিত সবক্ষেত্রেই।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পুরো ব্যাংকিংখাতে শৃঙ্খলা ফেরানো না গেলে প্রকৃত উদ্যোক্তারা কোনো ভাবেই উপকৃত হবে না।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি জানান, যারা ঋণ খেলাপী হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকের সময় বড় বড় ঋণ খেলাপীরা বসছেন সরকারের পক্ষ থেকে কথা বলার জন্য। পুরো ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে এই জাতীয় যে অভিযোগগুলো আছে সেগুলোর সমাধান হবে না।'

দেশের জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫ শতাংশের বেশি। এ বিবেচনায় এ খাতের জন্য সরকারের আলাদা নজরদারির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।