DBC News
‘এ বছর সীমান্ত হত্যার ঘটনা নেই বললেই চলে’

‘এ বছর সীমান্ত হত্যার ঘটনা নেই বললেই চলে’

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর সীমান্তে মানুষ হত্যার ঘটনা নেই বললেই চলে। আজ সোমবার বিজিবি’র সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে মানুষ হত্যার ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বিগত বছরগুলোর এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০০১ সালে ৭১ জন, ২০১০ সালে ৬০ জন, ২০১৫ সালে ৪৫ জন, ২০১৬ সালে ৩১ জন, ২০১৭ সালে ২২ জন ও চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় মাত্র একজন হত্যার শিকার হন।

তিনি বলেন, 'এই হত্যার ঘটনা আগামীতে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আমরা আশাবাদী।'

গত ৩ থেকে ৮ই সেপ্টেম্বর দিল্লীতে অনুষ্ঠিত মহাপরিচালক পর্যায়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সম্মেলন বৈঠকের অগ্রগতি সংক্রান্ত বিষয় জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়। এ সময় সীমান্ত সম্মেলনে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসু ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলেও বিজিবি মহাপরিচালক উল্লেখ করেন।

সাংবাদিককের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার যে আদেশ করবে বিজিবি সে আদেশ অনুযায়ী কাজ করবে। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি আমাদের এই দায়িত্ব পালন করতে হয়।

তিনি বলেন, সরকার চাইলে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজিবি মহাপরিচালক জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি নির্বাচনের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বিএসএফ ও মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বিজিবি।

সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি সবসময়ই সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।  

তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধ অস্ত্র আসতে না পারে সেজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে বিজিবির পুরো জনবল সীমান্তে ও আইন-শৃংখলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। এ লক্ষ্যে আমরা সব ছুটি বাদ দিয়েছি। এমনকি এ উপলক্ষ্যে সব ধরনের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন কর্মসূচিও বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সীমিত জনবল দিয়ে যেন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া যায় সেজন্য আলোচনা করছি। কারণ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করার সময় আমাদের জনবল ভাগ হয়ে যাবে। তখন আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমান্ত যাতে সুরক্ষিত থাকে সেজন্য তাদের সহযোগিতা চেয়েছি।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোন সন্ত্রাসী ঘাঁটি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর আগে ঢাকায় বিজিবি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষী পুলিশের সঙ্গে সীমান্ত সম্মেলনে মাদক চোরাচালান বন্ধে দু’দেশ এক মত পোষণ করে।

তিনি বলেন, 'মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা  নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে থাকে তাই আমাদের সকলকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।'