DBC News
জাতীয় ঐক্য নিয়ে ২০ দলীয় জোটে অনৈক্য

জাতীয় ঐক্য নিয়ে ২০ দলীয় জোটে অনৈক্য

বিএনপির পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার কথা বলা হলেও, অনৈক্য রয়েছে জোটের শরীকদের মধ্যে। অন্যতম শরীক এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ বলে দিয়েছেন, বৃহত্তর ঐক্যের চেয়ে বরং দল ও জোটকে শক্তিশালী করতে বিএনপির মনোযোগী হওয়া উচিত। দলটির আরেক শরীক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ইব্রাহিম ঐক্য ও জোট নিয়ে বিএনপিকে আরও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলনকে জোরদার করতে অনেক আগে থেকেই জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে বিএনপি। তবে, ঐক্যে আগ্রহী দলগুলো আগামী নির্বাচনে ১৫০ আসন চাওয়ার পাশাপাশি জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার শর্তও জুড়ে দিয়েছে।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘আমি ১৫০ এর নিচে থাকবো না। যদি তারা ওই ধরনের শর্তে রাজি না হয়, বা ভারসাম্যের প্রেক্ষাপটে, আমরা কখনও কারও সঙ্গে যাবো না, যত বড় দলই হোক তারা। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধী আমরা তাদের সঙ্গে যাবো না।’

বৃহত্তর ঐক্যের জন্য কিছুটা ছাড় দিতেও রাজি বিএনপি। কিন্তু কতোটা? সেই হিসেব নিকেষ এখনও চলছে বিএনপির ভেতরে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বৃহত্তর যে ঐক্য, সে ঐক্য কখনওই হবে না, যদি না আমরা কিছু না কিছু ত্যাগ স্বীকার করি বা ছাড় দেই। সেই ছাড় দিয়ে আমাদের এমন একটি সর্বগ্রহণযোগ্য জায়গায় আসতে হবে, আর এখন আমরা সেই সেটাই চেষ্টা করছি।’

বিএনপি বলছে ওই ঐক্য প্রক্রিয়া ২০ দলীয় জোটের বাইরে সরকার বিরোধী আন্দোলনের আরেকটি পদক্ষেপ। আর এখানেই আপত্তি জোটের শরীকদের।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি ড.কর্ণেল (অব) অলি আহমদ বলেছেন, ‘বিএনপির উচিত ছিল ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে এ ব্যাপারে আগেই পরামর্শ করা। ১৫০টি সিট চেয়েছে, এলডিপি এবং অন্যান্য দল ১০০টা সিট চাইবে, তাহলে বিএনপি কি করবে। এভাবে যদি সবাইকে ভাগ দিতে হয় তাহলে বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে। বিএনপির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে নিজেদেরকে সুসংগঠিত করা।’

এদিকে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেছেন, '২০ দলীয় জোটের মধ্যে জামায়াত থাকবে কি থাকবে না, সেটার একাধিক বন্দোবস্ত করা যায়। মূল লক্ষ্যটা যদি হয় নির্বাচন, সর্বাধিক জনসমর্থন আদায়, তার জন্য আমাদেরকে এমন একটা কৌশল ব্যবহার করতে হবে যাতে করে বিপরীত পক্ষ সুবিধা না পায়।’

একক সিদ্ধান্তের চেয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্তই কার্যকর বলে মত দিয়েছেন জোট নেতারা।