DBC News
বিদ্যুৎ আমদানি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে

বিদ্যুৎ আমদানি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে

ভারত থেকে তৃতীয় দফার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ৩০০ মেগাওয়াট আমদানি শুরু হয়েছে। বাকি ২০০ মেগাওয়াট আসবে শিগগিরি। ফলে, প্রতিবেশি এই দেশ থেকে আমদানি করা মোট বিদ্যুতের পরিমাণ দাঁড়াবে ১১শ ৬০ মেগাওয়াট। স্বল্প মেয়াদি চুক্তির আওতায় এই বিদ্যুতের দাম আপাতত সহনীয় হলেও ভবিষ্যতে তা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা । 

নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদার সবটুকু পুরণ হয়না। তাই ত্রিপুরা এবং ভেড়ামারা সীমান্ত সঞ্চালন লাইন দিয়ে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমাদনি করা হচ্ছে ভারত থেকে। নতুন আমদানির জন্য ভেড়ামারা বহরমপুর সঞ্চালন লাইন আপগ্রেড করা হয়েছে। এই বিদ্যুতের ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করছে ভারতের এনপিটিসি বিদ্যুৎ ভেপার নিগম লিমিটেড- এনভিভিএল। প্রতি ইউনিটের দাম পড়বে সাড়ে ৫টাকা। বাকি ২০০ মেগাওয়াট দেবে পিটিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড, দর পড়বে ৫টাকা ৪০ পয়সা। আর ১৫ বছরের চুক্তিতে খরচ হবে ৪২ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, 'এখন সবাই আরও বিদ্যুত চাচ্ছে, সবাই উন্নত জীবন চাচ্ছে। এটা একটা ভালো কাজ। এর কোনো বিকল্প নেই।'

বিদ্যুৎ উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের মোট সরবরাহের ১৬ ভাগ আসবে আমদানি থেকে। ভারতের পাশাপাশি বিদ্যুৎ আসবে নেপাল ও ভুটান থেকে। নেপালের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি হয়ে গেছে। তবে দেশের স্বার্থ বিবেচনায় এসব চুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, 'ইন্ডিয়া পাওয়ার এক্সপোর্ট করবে আমরা ইমপোর্ট করবো। অন্যদের অন্য কোনো যায়গা থেকে বিদ্যুৎ আমদানী করার সুযোগ কম্পিটিটিভ প্রাইজে খুব সীমিত থাকবে বা থাকবেই না।' পুরো মার্কেটটাই মনোপলি মার্কেটে রুপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেও জানান তিনি।

আঞ্চলিক বিদ্যুত বাণিজ্যে ভুটান, নেপাল এবং ভারতের কাছ থেকে আরও বেশি করে বিদ্যুৎ আমদানি করতে বৃহৎ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ভারতের ভুখণ্ড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানি করতে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আলোচনা এগিয়ে চলছে।