DBC News
প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন আইনজীবীরা, খালেদাকে রিটের অনুমতি

প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন আইনজীবীরা, খালেদাকে রিটের অনুমতি

সুপ্রিমকোর্টের অনুমতি ছাড়া কোথাও আদালত বসানো সংবিধান সম্মত নয় দাবি করে এ ব্যাপারে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির আইনজীবীরা। 

রবিবার দুপুরে, সুপ্রিমকোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদিন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, 'কারাগারের ভেতরে আদালত স্থাপনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের কোনও প্রজ্ঞাপন সরকার জারি করতে পারে না। জেলখানার একটি কক্ষকে কারাগার হিসেবে পরিগনিত করে একটি অস্থায়ী আদালত স্থাপন করেছে যা নিয়ম ও আইন বহির্ভূত।'

তিনি জানান, প্রায় পোনে এক ঘণ্টা প্রধান বিচারপতি তাদের বক্তব্য শুনেছেন। প্রধান বিচারপতি তাঁর ক্ষমতাবলে এ বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।

এ সময় 'বিচারিক সীমা লঙ্ঘনকারীদের' বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত একটি আবেদন করেছেন।

এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাগারে অস্থায়ী আদালত বসানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়াকে রিট করার অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট।

রবিবার সকালে, বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আহমদে সোহেল-এর বেঞ্চে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করলে হাইকোর্ট এ অনুমতি দেন। গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে বিশেষ জজ আদালত-৫ হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পরদিন থেকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ওই আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার শুরু হয়। 

এদিকে, খালেদা জিয়াকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে একই বেঞ্চে আজ সকালে রিট করেন তার আইনজীবীরা। আগামীকাল এ বিষয়ে শুনানির দিন ঠিক করেছে হাইকোর্ট। 

রিটকারী আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, 'খালেদা জিয়ার পছন্দমতো কোনো হাসপাতালে সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে আজ দুপুরে রিট করা হয়েছে। আগামীকাল বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি শেখ আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।'

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া অর্থদণ্ডও করা হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।