DBC News
১১৫ টন খাদ্যদ্রব্যসহ আট ট্রাক জব্দ, আটক দুইজন

১১৫ টন খাদ্যদ্রব্যসহ আট ট্রাক জব্দ, আটক দুইজন

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে অভিযান চালিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি-ওএমএস এর ১১৫ টন খাদ্য দ্রব্যসহ ৮টি ট্রাক জব্দ করেছে র‌্যাব। এসব চাল বেশি দামে অনুমোদনহীন স্থানে বিক্রি হতে যাচ্ছিল। আটক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির ও ২০ নম্বর গুদামের তত্ত্বাবধায়ক মনিয়ার হোসেনকে।

১৫ দিন অনুসন্ধান করে র‌্যাব জানতে পারে, ওএমএস এর খাদ্যদ্রব্য নিয়মবহির্ভূতভাবে বিক্রি হবে। মোট ১১৫ টন পরিমাণের ৪ ট্রাক চাল, ৩ ট্রাক আটা ও ১ ট্রাক গম, ঢাকার ১৪০টি স্থানে ওএমএস এ বিক্রি হবার কথা। অথচ গাজীপুর, মৌলভীবাজার ও চুয়াডাঙ্গা, এমনকি রাজধানীর কৃষি মার্কেটেও এসব দ্রব্য বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা চলছিল। খোদ কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম থেকেই হচ্ছিল এর পরিকল্পনা। 

শনিবার রাত ১০ টায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব এর একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামে গিয়ে হাতেনাতে জব্দ করে ৫টি ট্রাক।  তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয় ২০ নম্বর গুদামের তত্ত্বাবধায়ক মনিয়ার হোসেনকে। পরে, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে অভিযান চালিয়ে আরও ৩টি ট্রাক জব্দ করা হয়।

এতকিছুর পরও বিষয়টি জানা ছিল না বলে গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের ব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, 'আমি তো এটা জানি না। কারণ গেটে ইন্সপেকশনের জন্য লোকজনকে দায়িত্ব দেয়া আছে। ডিউ সেকশন আছে, পাঁচটা সেকশনে কাজ হয়। চাল এখানে আসার কথা না, ডিলারের নিয়ে যাবার কথা কেন্দ্রে। ওরা নিয়ে আসছে আমি এটা জানি না।'
পরে অবশ্য র‌্যাব এর কাছে বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি ।

র‌্যাব এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম বলেন, 'মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টন চাল বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বাকি সব চাল কালো বাজারের মাধ্যমে নিয়ে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। যেখানে আমাদের কিছু সরকারি লোকজন জড়িত, যারা হচ্ছে এই সিএসডি খাদ্য গুদামের কিছু কর্মকর্তা এবং বাইরের কিছু ব্যবসায়ী। বৃহত্তর স্বার্থে নিয়মিত এটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। যারা যারা জড়িত আছেন তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।'