DBC News
গেইন ট্যাক্স মওকুফ চান ডিএসই'র পরিচালকরা

গেইন ট্যাক্স মওকুফ চান ডিএসই'র পরিচালকরা

চীনের দুই পুঁজিবাজারের কাছে শেয়ার বিক্রি করা টাকার গেইন ট্যাক্স মওকুফ চান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালকরা। এছাড়া, ওই টাকার পুরোটা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বিশ্লেষকদের।

চীনের দুই পুঁজিবাজার সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ২৫ শতাংক শেয়ার বিক্রি করে সোমবার ৯৬২ কোটি টাকা পেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম মাজেদুর রহমান জানান, '৯৬২ কোটি টাকার মধ্যে ১৫ কোটি টাকা সরকারকে পরিশোধ করা হয়েছে। আর বাকী টাকা কিছুদিনের মধ্যেই আমরা আমাদের শেয়ার হোল্ডারদের কাছে পৌঁছে দিবো।'

ডিএসইর পরিচালকরা এই টাকার ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স মওকুফ করার দাবি জানিয়ে আসছেন শুরু থেকেই। গেইন ট্যাক্স এর টাকা মওকুফ এবং এই টাকা বাজারে রাখতে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহবান জানান ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী।

মডার্ন সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুজিস্তা নূর-ই-নাহরিন বলেন, 'আমাদের যদি ট্যাক্স মাফ করে দিয়ে সেই টাকা শেয়ার বাজারে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিয়োগ করার শর্ত দেয়া হত, তাহলে আমাদের জন্য সেটাই ভালো হতো।'

তবে অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান জানান, দরকার না থাকলে সরকার কোনো ট্যাক্স মওকুফ করবে না। তিনি বলেন, ঊনারা যেসব শর্ত দিয়েছেন, সেগুলো বাজার নীতির সাথে যায় না। ঊনারা বিক্রি করে মাল অর্জন করেছে, তাহলে আমাদের পাওনা দিতে কি সমস্যা।'

চীনা পুঁজিবারের কাছে শেয়ার বিক্রির পুরো টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিশ্লেষকদের।

ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোশতাক আহমেদ সাদেক বলেন, 'যদি ট্যাক্স দিতে হয় তাহলে ১৫% কেনো দিতে হবে। আমরা অর্থমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে আবেদন করেছি, উনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি ব্যাপারটা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবেন।'

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, 'আমি একজন বিনিয়োগ কারী হিসেবে বলছি গেইন ট্যাক্স মওকুফ চাওয়াটা অযৌক্তিক। সাধারণভাবেই গেইন ট্যাক্সের ১৫% সরকারকে দিতে হয়। কিন্তু কোন যুক্তিতে তারা এটি মওকুফ চাচ্ছে, সেটাই আমি বুঝতে পারছি না।'

তারা বলছেন, চীনা কনসোর্টিয়ামের বিনিয়োগের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পুজিঁবাজারের রেটিং বাড়বে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।