DBC News
'উন্নয়নের ধারা যেন ব্যাহত না হয়'

'উন্নয়নের ধারা যেন ব্যাহত না হয়'

ক্ষমতায়  যারাই আসুক, উন্নয়নের ধারা যেন ব্যাহত না হয় তার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি বলেছেন, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির দিকে নজর দিতে হবে। 

শনিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ষষ্ঠ জাতীয় কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সরকারে এসে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। জমির সীমাবদ্ধতা থাকা সত্বেও আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন। খাদ্য উৎপাদনে আজ আমরা বিশ্বে ৪র্থ স্থান দখল করেছি। কৃষিতে যত অর্জন হয়েছে তার সব কিছুই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই হয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা সরকারে এসে ৩ দফা সারের দাম কমিয়েছি। কৃষকদের ঋণের সুবিধার্থে আমরা বিশেষ ব্যাংকের ব্যবস্থা করেছি। বর্গা চাষীদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করেছি। কৃষকদের এখন আর ব্যাংকের কাছে যেতে হবে না, ব্যাংকই টাকা নিয়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে যাবে।'

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'বিএনপি কখনোই চায়নি বাংলাদেশ এগিয়ে যাক, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন হোক। তারা চেয়েছিল আমরা যেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন না হই, তাহলে বাইরের দেশ থেকে ভিক্ষা এনে দেশ চালানো সুবিধা হবে। কিন্তু আমরা তা করতে দেয়নি, আমাদের সফল উদ্যোগের কারণেই আজ আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ন হতে সফল হয়েছি।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জাতির জনক সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। আর ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান সব উন্নয়ন পরিকল্পনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর উদ্দেশ্যই ছিলো উৎপাদন নয়, ব্যবসা।'

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'কৃষকদের যাতে সেচের অসুবিধা না হয় সেজন্যেও আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। বিদ্যুতের উৎপাদনে বাড়িয়ে আমরা ২০ হাজার মেগাওয়াট করেছি যাতে কৃষকরা সহজেই  কৃষিকাজের জন্য তা ব্যবহার করতে পারে। বিদ্যুৎ বিভাগকেও আমরা নির্দেশ দিয়েছি বিদ্যুতের জন্য কৃষকদের যাতে সেচের কোন অসুবিধা না হয়।' 

দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শুধু খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন নয়, আপদকালীন সময়ের জন্য যেমন বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলার জন্য খাদ্য মজুদ রাখতে হবে। আর সে লক্ষ্যে আধুনিক খাদ্য গুদাম তৈরির লক্ষ্যে কাজ করেছি। এ আধুনিক খাদ্য গুদাম বা সাইলোতে আমরা যেন ২০ থেকে ২২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য আপদকালীন সময়ের জন্য মজুদ রাখতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করে চলেছি।'

দুই দিনব্যাপী এ কনভেনশনে কৃষির প্রবৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা, খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং জনবান্ধব কৃষি বিষয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশীয় বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৃষি বিজ্ঞানীরাও অংশ নেবেন। দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে অন্তত সাত হাজার অতিথি অংশ নেবেন বলেও জানা যায়।