DBC News
'প্রস্তাবিত আইনে সাজা বাড়ায় কমবে অপরাধ'

'প্রস্তাবিত আইনে সাজা বাড়ায় কমবে অপরাধ'

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহণ আইনে সাজার মেয়াদ বাড়ানোয় অপরাধের মাত্রা কমে আসবে বলে মনে করে বিআরটিএ। আর গণপরিবহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনে সংশোধনীই পর্যাপ্ত নয়, হতে হবে কঠোর বাস্তবায়ন। 

সড়কে যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল। সেইসাথে যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা। এসব কারণে সড়কে চলছে একের পর এক প্রাণহানি। প্রতিবাদে অশান্ত রাজপথ। সময়ের দাবিতে সড়ক পরিবহন আইনের সংশোধনী।

সংশোধিত আইনে দুর্ঘটনায় চালকের শাস্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আগে থেকে থাকলেও এবার চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে দেয়া হয়েছে শর্ত। সেইসাথে থাকতে হবে গাড়ির ফিটনেস। বাড়ানো হয়েছে সাজার মেয়াদ।

বিআরটিএ'র পরিচালক মাহবুব-ই-রব্বানি জানান, 'চ্যালেঞ্জতো আগেও ছিল, এথনও আছে। আগে সেটা ইম্পিলিমেন্ট করতে না পারার কারণ দন্ডের পরিমাণ ছিল খুবই কম। আগে দুই হাজর টাকা জরিমানা আর তাদের কিছু মালামাল নিয়ে চলে যেতো। কিন্তু এখন যদি তাকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয় তাহলে তারা আইন মানতে বাধ্য থাকবে।'
 
সাজার মেয়াদ বাড়লেও এ আইনে কিছু দুর্বলতা রয়েছে বলে মত গণপরিবহন বিশেষজ্ঞদের। বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, 'ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে আপনার ছয় মাসের সাজা কিন্তু আবার বলা আছে যে কেউ যদি নকল লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালায় তাহলে তার দুই বছরের সাজা। শাস্তি একই রকম রাখলে, মনে হয় এ অসঙ্গতি গুলো দূর হবে। যতই আমরা আইন তৈরী করি না কেন আইনের যদি যথাযথ প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে আমরা যে সড়ক নিরাপদ করতে চাই, সবার যে আকাঙ্খা সেটা কিন্তু হবে না।'

তারা বলছেন, কেবল আইনে সংশোধনী আনলেই হবেনা, হতে হবে এর কঠোর বাস্তবায়ন।  

আইন আছে তবে বাস্তবায়ন নেই। কিংবা বিদ্যমান আইন দুর্বল। বিভিন্ন ক্ষেত্র এসব কথা শুনতে যেন অনেকটাই অভ্যস্ত হতে হয়েছে এদেশের নাগরিকদের। তবে এবার তারা চাইছেন, রাজধানীতে বাস চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী আনা হল--তার নিশ্চিত বাস্তবায়ন হবে।