DBC News
শরীয়তপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন; ৩০ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম ভাঙন বরিশালে

শরীয়তপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন; ৩০ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম ভাঙন বরিশালে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় গত কয়েক দিন ধরে চলছে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন। এরই মধ্যে ভাঙনে বিলীন হয়ে গিয়েছে বহুতল ক্লিনিক ও মার্কেটসহ তিন শতাধিক স্থাপনা। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ আরো অনেক স্থাপনা।

পদ্মার আগ্রাসী ভাঙনে নির্ঘুম সময় কাটছে নড়িয়ার বাসিন্দাদের। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় চরম আতংকে আছেন ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ।  
গত কয়েকদিনে ভাঙনে বিলীন হয়েছে মুলফৎগঞ্জ বাজারে ক্লিনিক ও মার্কেটসহ তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ঝুঁকিতে রয়েছে এ বাজারের আরও অন্তত পাঁচশো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। 

যেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে নদীর খুব কাছে থাকা ৫০ শয্যার নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এই আশঙ্কায়, এরই মধ্যে হাসপাতালটি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে সব রোগীকে। 

ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন। গত দুই মাসে নড়িয়ায় পদ্মার ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে প্রায় চার হাজার পরিবার। নদীতে বিলীন হয়েছে নড়িয়া পৌরসভার দুইটি ওয়ার্ড, মোক্তারের চর ইউনিয়নের তিনটি ও কেদারপুর ইউনিয়নের ১২টি গ্রাম।

এদিকে, গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নদী ভাঙনের মুখোমুখি হয়েছে বরিশাল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরিপে ৫০টি স্পটও চিহ্নিত করা হয়েছে গুরুতর ভাঙন কবলিত এলাকা হিসেবে। শতাধিক পরিবার এরই মধ্যে গৃহহীন হয়েছে। সহায়তা না মেলায় ক্ষুব্ধ তারা।

৭০ বছর বয়সী জয়নাল মোল্লার জন্ম, বেড়ে ওঠা কীর্তনখোলার তীরেই।  বাপ-দাদার যে ভিটেয় তার সন্তানরাও বেড়ে উঠেছে, তা আজ নদীগর্ভে। ভিটে-মাটি হারিয়ে আজ নিঃস্ব তিনি।

তার মতোই ঘরহারা বরিশাল শহরের সবচেয়ে কাছের ইউনিয়ন চরকাউয়ার কয়েকশো পরিবার। নদীতে বিলীন হয়েছে জেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সুগন্ধা নদীর ওপর দোয়ারিকা শিকারপুর সেতুও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ভাঙন ঠেকাতে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ। প্রশাসনের দাবি তারা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছেন। নদী ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি ভূক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াবে প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা দুর্গতদের।