DBC News
আইসিসি'র রায় প্রত্যখ্যান মিয়ানমারের

আইসিসি'র রায় প্রত্যখ্যান মিয়ানমারের

রোহিঙ্গা বিতাড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রয়েছে বলে যে সিদ্ধান্ত হেগের ওই আদালত থেকে এসেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।

দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নেই। বিবৃতিতে আইসিসি'র রায়কে ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ব্যক্তিগত দুর্দশার বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সেখানে অভিযোগ সাজানো হয়েছে, যার সঙ্গে আইনি যুক্তির কোনো যোগাযোগ নেই, বরং আবেগের জায়গা থেকে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।'

এছাড়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে আইনি যুক্তির কোন সম্পর্ক নেই বলেও ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়। 

লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়ে হেগের ওই আদালতের প্রসিকিউটর ফাতোও বেনসুদা গত এপ্রিলে একটি আবেদন করেছিলেন।

সেখানে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্যে দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচারের এখতিয়ার এই আদালতের রয়েছে। কেননা এই ঘটনায় সংঘটিত অপরাধ সীমান্ত পেরিয়ে আইসিসির সদস্য দেশ বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়েছে। 

মিয়ানমার বলে আসছে, তারা যেহেতু আইসিসির সদস্য নয়, সেহেতু ওই আদালতে তাদের বিষয়ে বিচারের প্রশ্নই অবান্তর। এ কারণে বিচারিক এখতিয়ার প্রশ্নে আইসিসির চিঠির জবাবও তারা দেয়নি।

কোনো দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সদস্য না হলে সেই দেশের সীমানায় সংঘটিত কোনো অপরাধের বিচার এ আদালত সরাসরি করতে পারে না। কিন্তু আইসিসির সদস্য বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক আদালত বিষয়টিকে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ বিবেচনা করছে।

বৃহস্পতিবার আইসিসি'র তিন বিচারকের প্যানেল লিখিত ভাবে রোহিঙ্গা নির্যাতনে জড়িত মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের সিদ্ধান্ত জানায়।