DBC News
কর্মী পাঠাতে ৯ গুণের বেশি টাকা নিয়েছে এজেন্সিগুলো

কর্মী পাঠাতে ৯ গুণের বেশি টাকা নিয়েছে এজেন্সিগুলো

জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে নির্ধারিত খরচের ৯ গুণেরও বেশি টাকা নিয়েছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। মাত্র ১০টি এজেন্সির কর্মী পাঠানোর অনুমোদন থাকায় তাদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুকরা। এজেন্সিগুলো মিলে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

গবাদি পশু আর একখণ্ড ধানি জমি। এই ছিলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের রুবেলের পরিবারের একমাত্র সম্বল। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য এর সবকিছুই বিক্রি করতে হয়েছে। প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামের এজেন্সিকে।

শুধু ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নয়। অন্য ৯টি জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানের সবগুলোই সরকার নির্ধারিত খরচের ৯ গুণ টাকা নেয় কর্মীদের কাছ থেকে।

২০১৬ সালে মালয়েশিয়ার সঙ্গে জি টু জি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর চুক্তির পর বাংলাদেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও মালয়েশিয়ার সিনারফ্ল্যাক্স নামে একটি কোম্পানি মিলে একচেটিয়াভাবে কর্মী পাঠানোর কাজ করতে থাকে।

গত দুই বছরে মালয়েশিয়া গেছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩৩০জন। সাড়ে তিন লাখ টাকা করে ধরলে তাদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ২৮ কোটি টাকা। অথচ সরকারি হিসাবে খরচ নেয়ার কথা মাত্র ৬শ' ৭৩ কোটি টাকা।

বায়রার সাবেক মহাসচিব মনসুর আহমেদ কালাম জানান, এই সিন্ডিকেটের এক পার্টে হচ্ছে দাতু আমিন এবং অন্য পার্টে হচ্ছে নূর আলী আর স্বপন। তারা এই সিন্ডিকেটের এমন একটা সিস্টেম দাঁড় করালো যেটার নাম ‘সিনারফ্লাক্স’। সেই সিষ্টেমের মাধ্যমে তারা এই দশ জনের দশটি এজেন্সিগুলোকে এই কন্টাক্টগুলো দিয়ে দেয়।'

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সদ্য বিদায়ী মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল ওই ১০ এজেন্সির একটি।

 এ বিষয়ে ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির কর্নধার ও বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন বলেন, 'মালেশিয়াতে বাংলাদেশ সরকার ৭৪৫টি এজেন্সির নাম পাঠিয়ে ছিল, সেখান থেকে এই দশটা এজেন্সির নাম আসে। অনেক এজেন্সির নাম না আসায় এসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।'

এরমধ্যেই গত ১৪ই আগস্ট মালয়েশিয়া সরকার জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে আর কর্মী নেয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ওই ১০ এজেন্সির একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ হবে।

এদিকে, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে ওই দুর্নীতির অভিযোগ গিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। যাচাইয়ের পর বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য আমলে নেয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, 'যদি দুর্নীতি ঘটে থাকে, যেই জড়িত থাক না কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ শেষে সংশ্লিষ্টদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।'