DBC News
'সড়কে নৈরাজ্যের দায় শ্রমিক নেতাদের'

'সড়কে নৈরাজ্যের দায় শ্রমিক নেতাদের'

দেশে পরিবহণ ব্যবস্থার বর্তমান নৈরাজ্যের পেছনে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে দায়ী করছেন চালক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, অনেক শ্রমিকই পরিবহণের মালিক হয়েছেন। তারপরও চাঁদার লোভে ধরে রাখছেন শ্রমিক ইউনিয়নের পদ। কেউ কেউ আবার ফেডারেশনের বড় কর্তাও। তারাই বিভিন্ন সময়ে দোষী চালকদের নানা অঘটনে প্রশ্রয় দিচ্ছেন।  

বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ড্রাইভারস ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মোহাম্মদ মনির বলেন, 'শাজাহান খান তো শ্রমিক ফেডারেশনের কর্যকারী সভাপতি। তার মানে উনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। উনি কি শ্রমিক না কি? যারা কোটিপতি শিল্পপতি তারা শ্রমিক নামে নেতা। এরা শুধু টাকা ভোগ করে খায়, আর শ্রমিকরা এদের কাছে জিম্মী হয়ে থাকে।'

দেশের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যেই রয়েছে তাদের নেতাদের প্রতি এমন ক্ষোভ। যার বহিঃপ্রকাশ শ্রমিক ইউনিয়নের এই নেতার কন্ঠে।

বেশিরভাগ সময়ই সড়কে আইন প্রয়োগে বাধা হয়ে দঁাড়ায় এসব পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো। দুর্ঘটনার প্রতিবাদ করলেই নেতাদের ইন্ধনে আন্দোলনে নামে শ্রমিকরা। শুরু হয় পরিবহন ধর্মঘট। তবে শ্রমিকের কল্যাণে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এসব সংগঠন কতটা করছে শ্রমিকের জন্য?

কয়েকজন বাস চালক জানান, তাদের কল্যাণে এসব শ্রমিক ফেডারেশন গুলো তেমন কোন কিছুই করেনি। তারা শুধু তাদের গাড়ির কোন সমস্যা হলেই খোঁজ নেন। 

বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ইউনিয়নের নামে শ্রমিকের ভাগ্য নয় বরং উন্নতি হচ্ছে এসব সংগঠনের নেতাদের। বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজ জানান, 'পরিবহন সেক্টরে অনেকেই আছেন তারা হয়তো মালিক হয়ে গেছেন কিন্তু এখনও শ্রমিক হিসেবে বা শ্রমিক ফেডারেশনে আধিপত্ত বজায় রাখছেন, চাঁদাবাজির সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি যে কোন সময়ে যদি কোন ড্রাইভার বা কোন শ্রমিক কোন একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে তাহলে এসব শ্রমিক ফেডারেশন বা মালিক ফেডারেশনের ছত্র ছায়ায় তারা পার পেয়ে যায়।'

নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, 'এরা নিজেদের স্বার্থের জন্য নিজেদের মঙ্গলের জন্য এসব করছে, দেশের জন্য করছে না। পরিবহন সেক্টরের শ্রমিকদের মঙ্গলও তারা করছে না। শুধু তাদের বিচার করতে গেলেই তারা ঝামেলা করে, মানে তাদের বিচার করা যাবে না।'

তারা বলছেন, পরিবহন শ্রমিকদের কয়েকজন নেতাই মূলত সড়ক পরিবহন আইনকে দুর্বল করে রেখেছেন।