DBC News
নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতে রোহিঙ্গারা

নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতে রোহিঙ্গারা

রোহিঙ্গাদের মধ্যে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব-সংঘাত ক্রমাগত বেড়েই চলছে। গেল এক বছরে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ২২ জন খুনসহ ৪ শতাধিক অপরাধ সংঘটন করার তথ্য জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। রোহিঙ্গাদের কারণে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

গত ৩১শে আগস্ট, টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মাদক ব্যবসার টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে খুন হন এক রোহিঙ্গা যুবক। এরপর গত রবিবার উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প থেকে অপহরণ করা হয় ৬ রোহিঙ্গাকে। যাদের ৩ জনকে পরদিন গলা কেটে হত্যার চেষ্টার সময় উদ্ধার করা হয়।

গেল এক বছরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ২২ জন রোহিঙ্গা খুনসহ নানা অপরাধে কক্সবাজারের বিভিন্ন থানায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ৪ শতাধিক। অপরাধের সঙ্গে রোহিঙ্গারা ক্রমশ জড়িয়ে পড়ায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোহিঙ্গারা ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সাথে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে। তাদের যে সব জঙ্গি সংগঠন গুলো ছিলো, তারা অস্ত্র সরবরাহ করছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমেই তারা একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। 

রোহিঙ্গাদের কারণে আরও বড় নিরাপত্তা সঙ্কট সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদের। তিনি বলেন, 'বাইরের কোন সন্ত্রাসী বা জঙ্গি গোষ্ঠি তাদের সাথে যোগাযোগ করে দেশে খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে কি না, এসব চিন্তা কিন্তু সরকারের করা উচিত।'

রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রশাসনও। তবে পুলিশের দাবি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তারা তৎপর।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ. কামাল হোসেন জানান, 'রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যথেষ্ট তৎপর আছে। তারা বিভিন্ন তথ্য সরকারের কাছে প্রেরণ করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে।'

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, 'রোহিঙ্গাদের এসব কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা চলছে। জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও এ ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো তাদের নিজেদের মধ্যে এসব কোন্দল মিটিয়ে যাতে সুন্দরভাবে একসঙ্গে থাকতে পারে।'