DBC News
বেপরোয়া যান চালনা ও মাত্রাতিরিক্ত গতি; নেই আইনের প্রয়োগ

বেপরোয়া যান চালনা ও মাত্রাতিরিক্ত গতি; নেই আইনের প্রয়োগ

পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রায় ৯০ ভাগ সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটছে বেপরোয়া চালনা ও মাত্রাতিরিক্ত গতির কারণে। চালকদের দাবি, মালিকের জমা ও চাঁদার টাকা যোগাড়ে অন্য পরিবহণের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে বেপরোয়াভাবে চালাতে বাধ্য হন তারা। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনের প্রয়োগ না থাকাও ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চালানোর একটি কারণ।

রাজধানীর সড়কে বেপরোয়া যানবাহন। যে যার খুশিমতো ছুঁটছে গন্তব্যে। সড়কে পরিবহণের অসুস্থ্য প্রতিযোগিতার এ চিত্র প্রতিদিনের। যার পরিণতি, প্রতিদিন পরিবহণের চাকায় পিষ্ঠ কোন না কোন প্রাণ। সড়কে যানচলাচলের এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। তবে আজকাল তা ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। যদিও নৈরাজ্য ঠেকাতে আছে আইন। তারপরও সড়কে যান চলাচলে কেন এত বিশৃঙ্খলা?

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, যখন চালকদের ভাড়া বা জমার টাকা পূরণ হয় না তখন তারা অধিক ট্রিপ দেয়ার জন্য এবং সময় বাঁচাতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আবার অনেকেই জানান, 'ফিটনেস বিহীন গাড়িগুলো চলাচলের জন্যও আমরা বিভিন্ন রকম দুর্ঘটনার শিকার হই। যানজটের কারণে তাড়াহুড়ো করতে যেয়েও অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে।'

আর চালকরা জানান, 'মহাজনরা আমাদের ওপর একটা জমার টাকা দেয়ার একটা টার্গেট দিয়ে দেন যেটা পূররণ না হলে আর বেতন থাকেনা। ফলে এই টার্গেট পূরণ করতে যেয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে, ফলে ঘটে দুর্ঘটনা।

তাদের সাথে একমত বিশেষজ্ঞরাও। বলছেন, একটি গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি পুরো পরিবহণ সেক্টর। আর তাই আইনের তোয়াক্কা না করেই চলছে নিয়ম ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা। সেই সঙ্গে নানা অব্যবস্থাপনাতো আছেই। এসব কারণে গতি ঠিক রেখে যানবাহন চালানো চালকের বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, মালিকের টাকা দিতে হয় এরপর সড়কে চাঁদাবাজি রয়েছে। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের কারণে আরেকজন চালক তার চাকরী নিয়ে যাবেন এসব মনোভাবের কারণে এবং কত দ্রুত তার ট্রিপ কমপ্লিট করতে পারবে। ফলে চালক হয়ে যায় বেপরোয়া। ফলে সময় বাঁচাতে গিয়েও ঘটে দুর্ঘটনা। 

নিরাপদ সড়কের দাবীতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে আসা ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, তারা জানে যাই করুক না কেন তাদের কোন শাস্তি হবেনা, কে মরলো কে বাঁচলো তাদের কিচ্ছু যায় আসে না। তাদের এই মনোভাবের জন্য ঘটে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা। তাদের এই মনোভাব তৈরি করার জন্য পরিবহণ নেতারাই দায়ি বলেও জানান।

এদিকে বিআরটিএ বলছে, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বেপরোয়া চালকদের এই সংক্রমণ ব্যাধি থেকে বের করে আনতে কাজ শুরু হয়েছে।

বিআরটিএ রোড সেফটির পরিচালক মাহবুবে রাব্বী জানান, 'আমরা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছি। মালিক, শ্রমিকসহ যারা এই সেক্টরে জড়িত তাদের সবার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। তাদের চিঠি দিয়ে সচেতন করা বা বারবার যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং মতবিনিময় করা হচ্ছে।'

বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা যানবাহন ব্যবহার করছেন তাদের বাঁচাতে এখনই সড়কে কঠোর নজর দেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।বিশেষজ্ঞরা বলছেন দীরঘদিন সড়কে আইন কঠোরভাবে না মানার কারণে এই বিশৃঙ্খলা বাড়ছেই।

আরও পড়ুন

'বিএনপি-জামাত জোট নমিনেশন নিলামে তুলেছিল'

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়পত্র নিলামে তুলেছিল বিএনপি-জামাত জোট-এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে যত বেশি টাকা দিয়েছে, তাকেই জোট থেকে নমি...

'নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছে সরকার'

নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছে সরকার এমন মন্তব্য করে ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সরকার নাগরিক অধিকার বঞ্চিত করে সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। শুক্রবার বিকে...

'ফোনালাপ ফাঁসের দায়ভার এনটিএমসির নয়'

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফোনালাপ ফাঁসের দায়ভার জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রসহ সরকারি কোনও সংস্থার নয়। এমন মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির পরিচা...

শহীদ মিনার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ২০শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি সারাদিন স্টিকারবিহীন যান চলাচল...