DBC News
আদালত স্থানান্তর সংবিধান পরিপন্থি: বিএনপি

আদালত স্থানান্তর সংবিধান পরিপন্থি: বিএনপি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে। নাজিমুদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারেই বসবে আদালত। তবে আদালত স্থানান্তর করে সরকার সংবিধান লঙ্ঘনের সাথে সাথে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ বিএনপির।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় শুনানির কয়েকটি ধার্য দিনে আদালতে হাজির না হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিচার কাজ কারাগারে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনমন্ত্রণালয়। পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরেই কাজ পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন এ মামলার দুদকের আইনজীবী ।  

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, 'আমরা বলেছি যে বেগম খালেদা জিয়া যেখানে আছেন সেখানেই আদালত বসানো প্রয়োজন।' 

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন আদালত স্থানান্তর আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার হীন উদ্দেশ্যে বলে মন্তব্য করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন,'আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং একদলীয় শাসন পুণঃপ্রতিষ্ঠিত করার হীন উদ্দেশ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সময় অবৈধ সরকারকে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

এমন ফৌজদারি মামলার বিচার কাজে আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সংবিধান পরিপন্থি বলেও দাবি বিএনপির। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ  বলেন, 'যে কোনো ফৌজদারী মামলা প্রকাশ্য হতে হবে। ৩৫২ ধারায় আপনারা দেখবেন একই কথা প্রায় লিখা আছে। এই বিচার প্রকাশ্য হতে হবে। সুতরাং আজ এটা সম্পূর্ণরূপে সংবিধান পরিপন্থি।'

এদিকে, আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় দ্রুত কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জনিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার এখন অনুষ্ঠিত হবে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় করাগারে- এ বিষয়ে মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘নিরাপত্তার কারণে’ এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বকশীবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন মাঠে নির্মিত এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে। সে জন্য নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ জজ আদালত-৫ নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এর প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

প্রসঙ্গত, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক। মামলার অন্য আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম খান।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামিন দিয়েছিলেন আদালত। গত ৭ই আগস্ট মামলাটির যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। ওই সময় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত জামিন বহাল রাখেন।

আরও পড়ুন

'মালয়েশিয়ায়  শ্রমিক পাঠাবে  সব এজেন্সি'

এখন থেকে বাংলাদেশের সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠাতে পারবে।  একথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল...

ঐক্যের বৈঠকে যাননি ড. কামাল

ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাসায় বৃহত্তর ঐক্যের বৈঠকে যোগ দেননি জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহবায়ক ড. কামাল হোসেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়।...

'বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন সিনহা'

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিদেশে বসে যে বই লিখেছেন তাতে দেশের বিচার বিভাগের ‘ভাবমূর্তি নষ্ট’ হয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল&nb...

বিচারকের প্রতি দুই আসামির অনাস্থা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় 'ন্যায় বিচার' না পাওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন, মামলার দুই আসামি জিয়াউল...