DBC News
১শ' বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে এনইসি

১শ' বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে এনইসি

জলবায়ু সংকট উত্তরণে 'ব-দ্বীপ' নামে ১০০ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ, এনইসি।

মঙ্গলবার সকালে, শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এর অনুমোদন দেয়া হয়।

এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ব্যয় হবে ৩ হাজার ৭শ' কোটি ডলার। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিবেচনায় ৬টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে ব-দ্বীপ পরিকল্পনায়। এগুলো হচ্ছে, উপকূলীয়, বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ, হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নদী ও মোহনা এবং নগরাঞ্চল।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে ২০৩০ সাল শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেড় শতাংশ বাড়বে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এর আগে, আগামী ১০০ বছরের জন্য ডেল্টা প্লান বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করে পরিকল্পনা কমিশন। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন তহবিল গঠনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নের জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থায়ন সম্বলিত বাংলাদেশ ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যার মধ্যে ২ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় করা হবে। জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ সরকারি তহবিল থেকে এবং শতকরা ২০ ভাগ বেসরকারি খাত থেকে আসবে।

অর্থায়নের ক্ষেত্রে কস্ট রিকভারির জন্য বেনিফিসিয়ারিপে প্রিন্সিপাল অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বড় শহরগুলোতে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় আদায়ের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা কার্যকর করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে এবং তা পর্যায়ক্রমে সময়ের আবর্তনে অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে।

ব-দ্বীপ পরিকল্পনায় ২০৩০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ এবং পানি সম্পদ স্থাপনা সংক্রান্ত পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়সহ কর্মসূচি বা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের ২ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমান ব্যয়ের তিন গুণ। সরকারি বিনিয়োগের খাতভিত্তিক বিভাজন দিয়ে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠাতিক উন্নয়নে ২০১৯-২১ সাল পর্যন্ত বিনিয়োগ ধরা হয়েছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের স্থিরমূল্যে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং ২০২২-৩১ সাল পর্যন্ত ৩২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। যা মোট বিনিয়োগের ৫ ভাগ। সহায়ক পরিবেশ খাতে ২১ সাল পর্যন্ত ২ হাজার কোটি টাকা এবং ৩১ সাল পর্যন্ত সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা, যা বিনিয়োগের দুই ভাগ। অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহনসহ প্রধান নদী এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা খাতে ২১ সাল পর্যন্ত সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং ৩১ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ২৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা মোট বিনিয়োগের ৩৫ শতাংশ। শহর এবং গ্রামাঞ্চলের সবুজায়ন, পানি সংরক্ষণ খাতে ২১ সাল পর্যন্ত ১৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, ৩১ সাল পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা মোট বিনিয়োগের ২১ শতাংশ।