DBC News
শহিদুল আলমের জামিন শুনানিতে বিব্রত আদালত

শহিদুল আলমের জামিন শুনানিতে বিব্রত আদালত

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রতবোধ করেছেন, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।

মঙ্গলবার বিচারপতি মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রতবোধ করেন। 

শুনানির সময় আদালতে শহিদুল আলমের আইনজীবি ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ, অমিত তালুকদার ও অরবিন্দ কুমার রায়।

নিয়ম অনুযায়ী, মামলাটি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তারপর প্রধান বিচারপতি আবেদনটি শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, 'বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেছেন জানিয়ে আদালত আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।'

পরে ব্যরিস্টার সারা হোসেন বলেন, 'আমি জানতে চেয়েছিলাম, বিষয়টি কয়েকদিন কার্যতালিকায় থাকার পরও আজ কেন বিব্রতবোধ করছেন? আদালত এই বিব্রতবোধ করার কারণ বলেননি। এভাবে বিব্রতবোধ করা সত্যিই অস্বাভাবিক।'

তিনি আরও বলেন, 'অামরা আজ আদালতের কাছে বলেছি, 'আমাদের যে জামিন আবেদনটি আছে সেটি শুনানি করা হোক। সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। আমরা শুনানির সুযোগ চাই। এটা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। আমরা কারণ জানতে চেয়েছি কেন আমাদের আবেদন শোনা হবে না। পাঁচদিন ধরে আমাদের আবেদনটি কার্যতালিকায় রয়েছে। কোনো না কোনো কারণে আজ শুনানি করা যায়নি।'

'এক পর্যায়ে আমাদের বলা হলো, 'বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা তখন আদালতে বলেছি, বাস্তবতা কী এটাই যে, একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো যাবে, তাকে আটকে রাখা হবে। তার জামিন চাইতেই দেয়া হবে না, এটাই কী আমাদের বাস্তবতা- যোগ করেন এই আইনজীবী।

ব্যারিস্টার সারা অারও বলেন, 'আমরা জানি সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকারের সুরক্ষা পেতে আদালতে আসতে হবে। এখানে আসার পরও যদি ফিরিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমরা কোথায় যাবো আমরা সেটাই বুঝতে পারছি না।'

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গেল ৫ই আগস্ট রাতে ধানমণ্ডির বাসা থেকে শহিদুল আলমকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তুলে নেয়। পরেরর দিন ৬ই আগস্ট 'উসকানিমূলক মিথ্যা' প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় তাঁকে সাতদিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে গেল ১২ই আগস্ট শহীদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন নিম্ন আদালত।

পরে ১৪ই আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করা হলে ১১ই সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য দিন ঠিক করা হয়। শুনানির তারিখ এগিয়ে আনতে ১৯শে আগস্ট আবেদন করা হলে তা গ্রহণ করেননি আদালত। ২৬শে আগস্ট তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চাইলে আদালত শুনানির জন্য তাও গ্রহণ করেননি।

আরও পড়ুন

সেই আলোচিত হেলমেটধারী আটক

রাজধানীর নয়াপল্টনে সংঘর্ষের ঘটনায় সেই আলোচিত হেলমেটধারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গত বুধবার বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় ঐ যুবক হেলমেট পরে পুলিশের...

'নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে'

ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে একটি দল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সোমবার বিকেলে, রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলীয়...

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাস চেয়ে খালেদার আপিল

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। আজ  রবিবার হাইকোর্...

শহিদুল আলমের জামিন স্থগিতের আবেদন

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলায় আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলমকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আবেদন করেছেন। সুপ্রিম কোর্টে...