DBC News
সাফ ফুটবল দিয়ে শুরু হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

সাফ ফুটবল দিয়ে শুরু হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন-সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ টুর্নামেন্ট সরাসরি সম্প্রচারের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা করা হবে এই স্যাটেলাইট দিয়ে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারেরও।

বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটে-বিসিএসসিএল'র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, টেস্ট ট্রান্সমিশন সফল হওয়ার পরে এই মাসের শেষ দিকে বা অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রচারে যেতে পারে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট।

বিসিএসসিএল জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে অন্তত ২০টি বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের পরীক্ষা হবে।

এ সম্পর্কে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রডাকশনের দায়িত্বে আছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইন। মূলত তাদের কাছ থেকেই বিসিএসসিএল ফিড নিয়ে তা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে দেয়া হবে। এর মাধ্যমেই পরীক্ষা হবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১-এর সম্প্রচার কাজ। ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত কার্যক্রম অনেকটাই এগিয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সময় গেল ১১ই মে বিকাল ৪টায় ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপিত হয়। স্যাটেলাইটটিকে নিরক্ষ রেখার ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে স্থাপন করা হয়। স্যাটেলাইটটি সেখানে সেট হওয়ার পরে টেস্ট সিগন্যাল পাঠাতে শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইন অরবিট টেস্টসহ সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে স্যাটেলাইটটিকে ট্রান্সমিশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

স্যাটেলাইটটির ওজন তিন দশমিক সাত মেট্রিক টন। এটি মহাকাশে অবস্থান করবে ১৫ বছর। সর্বমোট খরচ ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। মোট খরচে সরকারি অর্থ ১ হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং বিদেশি অর্থায়ন থাকবে ১ হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাংলাদেশকে এই ঋণ দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। আগামী সাত বছরের মধ্যে এই খরচ উঠবে আসবে বলে ধারণা করছে উৎক্ষেপণকারী সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

স্যাটেলাইট তৈরির পুরো কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তত্ত্বাবধানে। তিনটি ধাপে এই কাজ হয়েছে। এগুলো হলো- স্যাটেলাইটের মূল কাঠামো তৈরি, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ও ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণের জন্য গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস।

স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শেষে গত ৩০ মার্চ এটি উৎক্ষেপণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেট ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চিং প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে মহাকাশের পথে উড়াল দেয়।

স্যাটেলাইট তৈরি এবং ওড়ানোর কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকেই। এ জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরে তৈরি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে রাঙামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন।