DBC News
মন্ত্রীসভার নীতিগত অনুমোদন পেলো শ্রম আইন

মন্ত্রীসভার নীতিগত অনুমোদন পেলো শ্রম আইন

মালিককে বল প্রয়োগ বা জিম্মি করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও এক বছরের জেল এবং বেআইনি ধর্মঘটে ছয় মাসের জেল ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা রেখে বাংলাদেশ শ্রম আইনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া কর্মরত অবস্থায় কোন শ্রমিক মারা গেলে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান রাখা হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, 'শ্রম আইনে আইএলও'র চাহিদা অনুযায়ী শ্রমবান্ধব করা হয়েছে। কোনো শ্রমিক স্থায়ী অক্ষম হলে আড়াই লাখ টাকা পাবে।' 

এছাড়া এই আইনে সন্তান প্রসবের পর একজন নারী শ্রমিক ৮ সপ্তাহের ছুটিসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। এছাড়া আহার-বিশ্রামের জন্য সময় দেয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ১০ ঘন্টার বেশি কাজ করানো যাবে না বলেও ধারা রাখা হয়েছে শ্রম আইনে। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে কারখানায় প্রয়োজনের কাজ বেশি করানো যাবে। এছাড়া উৎসব ও ছুটির দিনে কাজ করালে পরে একদিন বিকল্প ছুটি ও দু'দিনের মজুরি দিতে হবে বলেও বিধান রাখা হয়েছে আইনে।

বাংলাদেশে এখন ২০০৬ সালের শ্রম আইন কার্যকর রয়েছে। বিভিন্ন শ্রম সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠনের দাবির মুখে ২০১৩ সালে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়, ওই সময় প্রায় ৯০টি ধারা সংশোধন হয়। তবে তা যথেষ্ট শ্রমবান্ধব ছিল না বলে এর সমালোচনা চলছিলো।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), আন্তর্জাতিক ক্রেতা জোট এবং বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন শ্রম আইন আবার সংশোধনের দাবি তোলে। এ নিয়ে বাংলাদেশ সরকার দেশে-বিদেশে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করে।

এরপর শ্রম আইন সংশোধনের খসড়া করে তা আইএলওতে পাঠানো হয়। আইএলও'র পর্যবেক্ষণ সেটি আমলে নিয়ে মালিক, শ্রমিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটি আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করে।