DBC News
মিয়ানমার সংকট: রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ড

মিয়ানমার সংকট: রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের কারাদণ্ড

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তথ্য সংগ্রহের সময় গ্রেপ্তার রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। 

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা অনুসন্ধানের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত তাদের এই সাজা দিয়েছে বলে সোমবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। রায় ঘোষণার সময় সাজা পাওয়া দুই সাংবাদিক ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সোয়ে (২৮) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

গত ৯ই জুলাই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে ইয়াংগুনের জেলা জজ আদালত। দোষী সাব্যস্ত করা হলে তাদের ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। 

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো সহিংসতার ঘটনা অনুসন্ধানের সময় রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা লঙ্ঘনের দায়ে রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়েকে এ শাস্তি দেয়া হয় বলে জানান, মিয়ানমারের আদালত।

ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ হলো, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনের অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক বিভিন্ন সংস্থা দুই সাংবাদিকের বেকসুর খালাস দাবি করে। 

প্রায় আট মাস ধরে চলা শুনানিতে ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে দুজনেই বলে আসছেন যে দুই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তারা সেদিন দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে আগে কখনও সাক্ষাৎ হয়নি। ইয়াঙ্গুনের একটি  রেস্টুরেন্টে গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর প্রথমবার দেখা করতে গেলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা তাদের হাতে মুড়িয়ে রাখা কিছু কাগজ ধরিয়ে দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে পুলিশের একটি গাড়িতে তুলে নেয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে পুলিশ কর্মকর্তা মোয়ে ইয়ান নাইন আদালতে দেয়া সাক্ষ্যে বলেন, 'ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা অধীনস্তদের ওই দুই সাংবাদিককে ফাঁদে ফেলতে গোপন নথি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।'

তবে অন্য পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের সাক্ষী দিতে গিয়ে বলেন, 'নিয়মিত একটি ট্রাফিক পুলিশ চেকপোস্টে ওই দুই সাংবাদিককে তল্লাশি করা হয়। যে কর্মকর্তারা তাদের তল্লাশি করেন তারা জানতেন না যে এরা সাংবাদিক। তবে ওই তল্লাশির সময়ে তাদের কাছে অজ্ঞাত উৎসের গোপন নথি পাওয়া যায়।'

রায়ের পর ওয়া লোন বলেন,' আমি ভীত নই। আমি কোন অন্যায় করিনি। আমি ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।'

আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রয়টার্সের এডিটর-ইন-চিফ স্টিফেন জে অ্যাডলার বলেন, 'আজকের দিনটি মিয়ানমার, রয়টার্সের সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে এবং সারাবিশ্বের গণমাধ্যমের জন্য দুঃখজনক একটি দিন।'

মিয়ানমারের এই ঘটনাকে মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য একটি পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কারাদণ্ড পাওয়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিকই গেল বছরের ডিসেম্বর থেকে মিয়ানমারের কারাগারে আটক রয়েছেন।
মামলার বিচারক ইয়ে লুইন বলেছেন, 'এই দুইজন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ক্ষতি করেছেন।'