DBC News
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত 'একাত্তরের জননী' রমা চৌধুরী

শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত 'একাত্তরের জননী' রমা চৌধুরী

'একাত্তরের জননী' লেখিকা রমা চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, সর্বস্তরের মানুষ। সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা শেষে তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

এর আগে দীর্ঘ রোগভোগের পর মারা যান রমা চৌধুরী। সোমবার ভোর রাত সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

চলতি বছরের ১৫ই জানুয়ারি কোমরে আঘাত, গলব্লাডারে স্টোনসহ কয়েকটি শারীরিক সমস্যা নিয়ে রমা চৌধুরী ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। 

একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নির্যাতিত এই মহীয়সী নারীর মরদেহ সকাল ১০টায় নেয়া হয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

শ্রদ্ধা জানাতে আসা লেখিকা, শহীদজায়া মুশতারী শফী এ সময় বলেন, 'রমা চৌধুরী আজীবন সংগ্রামী একজন নারী। তিনি কারও দান কোনদিন গ্রহণ করেননি। তিনি ছিলেন, নির্মোহ একজন মানুষ। নিজে বই লিখে তা বিক্রি করে জীবনযাপন করেছেন। তাঁর অবদান অপরিসীম। রাষ্ট্রের কাছে তাঁর অনেক কিছু পাওনা ছিল।'

রমা চৌধুরী ১৯৪১ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রমা চৌধুরী। তিনিই ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম নারী স্নাতকোত্তর। ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন রমা চৌধুরী।

রমা চৌধুরী প্রকাশিত গ্রন্থ- নজরুল প্রতিভার সন্ধানে, রবীন্দ্র সাহিত্যে ভৃত্য, একাত্তরের জননী, স্বর্গে আমি যাবো না, চট্টগ্রামের লোক সাহিত্যের জীবনদর্শন, শহীদদের জিজ্ঞাসা, নীল বেদনার খাম, এক হাজার একদিন যাপনের পদ্য, সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভাব বৈচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ইত্যাদি।

১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি তিন পুত্র সন্তানের জননী ছিলেন। থাকতেন পৈতৃক ভিটা পোপাদিয়ায়। সে সময় তাঁর স্বামী ভারতে চলে গেলে ১৩ই মে পাকিস্তানি সেনারা তাঁর ঘরে চড়াও হয়। তখন তাঁর কোলে দুগ্ধপোষ্য সন্তান থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি সেনারা অমানুষিক নির্যাতন চালায় তাঁর ওপর। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, সব সম্পদ নষ্ট করে। নিজের এই নির্মম কষ্টের কথা তিনি লিখেছেন 'একাত্তরের জননী ' গ্রন্থে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ২০শে ডিসেম্বর তাঁর বড় ছেলে সাগর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর দেড় মাস পর মারা যায় আরেক ছেলে টগর। এরপর থেকে তিনি অনিয়মিতভাবে জুতো পরতেন। ১৯৯৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আরেক ছেলে মারা গেলে পুত্রশোকে তিনি আর জুতো পায়ে দেননি। খালি পায়ে হেঁটে নিজের লেখা বই বিক্রি করে চলতেন এই নারী।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রশংসার যোগ্য: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নারী প্রিয়া সাহা যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা সঠিক নয় বলে মনে...

লন্ডন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লা...

নুসরাত হত্যা: ৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষকসহ চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ। অন্যদিকে,মাদ্রাসার বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ...

নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।  এখন সাক্ষ্য দিচ্ছেন ১৪ নম্বর সাক্ষী কাউন্সিলর শেখ আব্দুল হামিদ।  এরপর সাক্ষ্য দিবেন ১৫ নম...