DBC News
সরকারকে বিদায় নিতেই হবে; রিজভী

সরকারকে বিদায় নিতেই হবে; রিজভী

আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, 'যতই ষড়যন্ত্র আর অপচেষ্টা করুন না কেন, আপনাদের এবার বিদায় নিতেই হবে। তিনি বলেন, 'অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিতে হবে'।

আজ রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি করে রিজভী বলেন, 'নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে কোনো গড়িমসি চলবে না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। তাঁর অধীনে নির্বাচনের অর্থই হচ্ছে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার হরণ।'

গতকাল শনিবার রাজধানীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে সংসদ ভেঙে সরকারের পদত্যাগের দাবি করেন বিএনপির নেতারা। তাঁরা দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তিও দাবি করেন। এরপর সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, 'খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আওয়ামী লীগ নয়, আদালতের ওপর নির্ভর করছে।' 

ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন রজভী। তিনি বলেন, 'ওবায়দুল কাদেদের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণ আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। খালেদা জিয়া একের পর এক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও নানা টালবাহানায় সরকারের নির্দেশেই তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।'

রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'খালেদা জিয়া সুবিচারে নয়, প্রতিহিংসামূলক সরকারি বিচারে কারাবন্দি। তাঁর এ অবস্থা শুধু সরকারের প্রতিহিংসার প্রতিফলন।'

তিনি বলেন, 'নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন আওয়ামী মন্ত্রীরা। আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য ত্রয়োদশ সংশোধনী আইন বাতিলের মাধ্যমে আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংযোজন করা সম্ভব।'

ইভিএম প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, 'জালিয়াতির মেশিন ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নীলনকশা বন্ধ করুন। পৃথিবীর অন্যান্য স্বল্পসংখ্যক দেশে যারা ইভিএম চালু করেছিল, তারাও এ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে। অথচ সব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে কেন এ গণবিরোধী সরকার ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট করতে চায়, তা জনগণ টের পেয়ে গেছে।'

ভোট ডাকাতির বিপক্ষে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষেই বাংলাদেশের জনগণ।