DBC News
'সবচেয়ে কম খরচে উচ্চ শিক্ষা বাংলাদেশে'

'সবচেয়ে কম খরচে উচ্চ শিক্ষা বাংলাদেশে'

'পৃথিবীতে সবচেয়ে কম খরচে উচ্চ শিক্ষা বাংলাদেশেই প্রদান করা হচ্ছে; বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীদের জন্য নবনির্মিত আবাসিক ভবন ‘৭ মার্চ ভবন' উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল সাড়ে ১০টায় ভবনটি উদ্বোধন করেন তিনি।

রোকেয়া হলের ‘৭ মার্চ ভবন’ ১১ তলাবিশিষ্ট। এ ভবনে প্রায় এক হাজার ছাত্রী আবাসন সুবিধা পাবেন। নতুন এ হল উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তরুণ শিক্ষকদের আবাসনের জন্য নির্মিত শহীদ আবুল খায়ের ভবন, এমবিএ ভবন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য বঙ্গবন্ধু টাওয়ার ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনের ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষাক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'পৃথিবীতে সবচেয়ে কম খরচে উচ্চ শিক্ষা বাংলাদেশেই প্রদান করা হয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষার উপর যে জোর দিয়েছি তা আর কোন সরকার দেয়নি। আমরা প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষায় অনুপ্রানিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে মোট ১২ টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। আমাদের প্রচেষ্টা দেশের প্রতিটি জেলাকে নিরক্ষরমুক্ত করা। আমরা আমাদের লক্ষ্যে অনেকটাই পৌঁছাতে পেরেছি, দেশে এখন প্রায় ৭২ শতাংশ মানুষ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন।'

এছাড়া শিক্ষাখাতের ব্যয়কে ব্যয় না বলে এটিকে দেশের উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ বলেও সম্মোধন করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'উচ্ছৃঙ্খলতা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। সবাইকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হলে নিয়ম মেনে আচরণ করতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমরা সবসময় উপযুক্ত ও দক্ষ কারিগর তৈরির লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। এছাড়া উচ্চ শিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।এছাড়াও, বহুমুখী শিক্ষার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বেসরকারী খাতকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিভিন্ন ধরনের গবেষণা ইন্সটিটিউটও তৈরি করেছে সরকার।

এ সময় শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের উপযুক্তভাবে শিক্ষা দিতে হবে যেন তার সুফল সাধারণ মানুষ পায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তাঁর পিতা, তিনিসহ তার পরিবারের প্রায় অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি গর্ব বোধ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'বাঙ্গালী জাতির অর্জনের যত সংগ্রাম আমরা করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সুতিকাগার হিসেবে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আমাদের কাছে অন্যরকম।'

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমরা একটা আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। কারণ ক্ষমতা আমার কাছে ভোগের বস্তু নয়, জনগণের সেবা করা। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি আমাদের উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে দেশের উন্নতি করা যায়, কারণ আমরা একটি লক্ষ্য নিয়েই দেশ স্বাধীন করেছি।' মুল্যায়নের জন্য রাজনীতি নয়, জনগণের সেবা করাই একজন রাজনীতিবিদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'বিএনপি কখনোই চায় নি দেশ উন্নত হোক। তারা ক্ষমতায় এসে শুধু দুর্নীতিই করেছে, দেশের উন্নয়নের চিন্তা করেনি। আমরা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক উদ্যোগ গ্রহন করেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে সব উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়েছে।'

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আঁকা হয়েছে ১৯৭১ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ৭ ফুট প্রস্থের আলপনা। মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে এ আলপনা আঁকা হয়।