DBC News
শেষ হলো বিমসটেক সম্মেলন

শেষ হলো বিমসটেক সম্মেলন

আঞ্চলিক উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে শেষ হলো চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন। নেপালের কাঠমান্ডুতে আজ শুক্রবার সকালে হোটেল সোয়াল্টি ক্রাউন প্লাজায় শুরু হয় সম্মেলনের শুক্রবারের অধিবেশন। সম্মেলনে শেষ অধিবেশনে বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারের দায়িত্ব শ্রীলঙ্কাকে দেয়া হয়। 

পরে সংবাদ সম্মেলনে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার জানান, বিনিয়োগ বাণিজ্য, যোগাযোগ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আলোচনা হয়েছে এই সম্মেলনে। তবে কাঠমান্ডু ঘোষণাপত্রে ছিলনা রোহিঙ্গা ইস্যু। সাইড লাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব। এছাড়াও আজকের রিট্রিট সেশনে সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ গ্রীড সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি সই হয়। তবে কয়েকটি দেশের আইনি জটিলতার কারণে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়নি।  

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সম্মেলনের প্রথমদিনে, কোনও ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও আঞ্চলিক উন্নয়নে যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

এদিকে, বিমসটেস সম্মেলনের সাইড লাইনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতা থেকে শুরু করে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে মোদি টুইট বার্তায় জানান, দু’দেশের জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা।  

বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন বা বিমসটেকের সদস্য দেশগুলো হচ্ছে—বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনীতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ, এমনি নানা ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। এমন কিছু অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমসটেক। প্রাথমিকভাবে এর সদস্য ছিল বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয় মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান।

২১ বছরে এই জোটের অগ্রগতি খুব বেশি না হলেও ধারণা করা হচ্ছে এবারের সম্মেলনে কার্যকর পারস্পরিক সহযোগিতার একটি নতুন দ্বার খুলবে। আর সেটি হলো বিদ্যুতের গ্রিড কানেক্টিভিটি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত। দুইদিনের এই সম্মেলন আজ সমাপ্ত হবে কাঠমাণ্ডু ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

আরও পড়ুন

'সংকট সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয়নি মিয়ানমার'

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন পদক্ষেপই নেয়নি মিয়ানমার। এ অবস্থায় দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনীকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই...

‘যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান’

আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে পঁাচদিনের সফর কর্মসূচির প্রথ...

'সংকট সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয়নি মিয়ানমার'

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোন পদক্ষেপই নেয়নি মিয়ানমার। এ অবস্থায় দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনীকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই...

মালদ্বীপে ইব্রাহিম সলিহকে জয়ী ঘোষণা

  মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বিরোধী নেতা ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহ। সোমবার বিকেলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন।ন...