DBC News
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচারে কূটনৈতিক সক্ষমতার সর্বোচ্চটা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচারে কূটনৈতিক সক্ষমতার সর্বোচ্চটা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে

রোহিঙ্গা গণহত্যায় আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিচার করতে কূটনৈতিক সক্ষমতার সর্বোচ্চটা দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। তবে এ নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলছে, আন্তর্জাতিক আদালতে বিষয়টি তুলতে পারলে মিয়ানমারের অপরাধীদের শাস্তি দেয়া সম্ভব।

২০১৭ সালের আগস্ট মাস থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন কমপক্ষে ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মিয়ানমারে অগণিত রোহিঙ্গাকে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে সে সময়।

সম্প্রতি জাতিসংঘ তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারে গণহত্যার তথ্য তুলে ধরে সেদেশের সেনাবাহিনীসহ জড়িতদের বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবীর মনে করেন, সেই বিচারে সবচেয়ে বড় বাধা মিয়ানমারকে ছায়া দেয়া চীন ও রাশিয়া। তাদেরকেও বাংলাদেশের পক্ষে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যদি মিয়ানমার একটি অপরাধপ্রবণ জাতি হিসেবে প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে রাশিয়া ও চীনকেও ভাবতে হবে তারা কি এ রকম একটি অপরাধপ্রবণ জাতির সাথে সংযুক্ত থাকবে কি না। সেই সুযোগকেই আমাদের কাজ়ে লাগাতে হবে। এক্ষত্রে আমাদের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক সক্ষমতাকেই কাজে লাগাতে হবে।

তবে বাংলাদেশ বিচারের জন্য কতটা তৎপর হয়েছে তা পরিষ্কার করছে না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বরং জাতিসংঘের চাওয়ার দিকেই তাকিয়ে আছে তারা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, 'গত সপ্তাহে জাতিসংঘের যে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়েছে সেখানে কিন্তু জাতিসংঘকেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পরবর্তী করনীয় কাজগুলো ঠিক করতে। এখন আন্তর্জাতিক আদালত এ ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তই নিবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমরা তাদের সব ধরণের সাহায্য ও সহযোগিতাই দিবো।'

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক মনে করেন, মিয়ানমারে যে সব অপরাধ ঘটেছে, তা বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে তুলতে পারলে অপরাধীদের শাস্তি দেয়া সম্ভব। তিনি জানান, 'মিয়ানমারে যেভাবে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, ঘর বাড়ি পোড়ানো হয়েছে,ধর্ষণ করা হয়েছে, এসবই গণহত্যার উপাদান। জাতিসংঘের তদন্ত সংস্থার এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের এই অপরাধের বিচার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারবে।'