DBC News
গতিশীলতা বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩টি গ্যান্ট্রি ক্রেন

গতিশীলতা বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরে ৩টি গ্যান্ট্রি ক্রেন

চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতা বাড়াতে নতুন তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেন যোগ হয়েছে। আসছে আরও বেশ কিছু যন্ত্রপাতি। এগুলো আসার পর জাহাজ ও কন্টেইনার জট কমে আসার পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্ত হলো নতুন ৩টি চীনা রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন। আরও চারটি আসছে আগামী মাসে। বছর শেষে আসবে বাকি চারটি। আগামী বছরের মধ্যে বিদ্যমান চারটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বমোট ১৪ টি গ্যান্ট্রি ক্রেনের অপারেশন শুরু হবে। ইকুইপমেন্ট বহরের নয়া এই সংযোজন চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা ছাড়াও দেশের ব্যবসা বাণিজ্যে খরচ কমানোর পাশাপাশি ব্যাপক গতিশীলতা সৃষ্টি করবে।

একই সঙ্গে চলতি মাসেই আসছে চারটি র্স্ট্যাডল ক্যারিয়ার ও পাঁচটি কনটেইনার মুভার। পণ্য ওঠা-নামায় এসব যন্ত্র ব্যবহারে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াবে। তবে বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, এগুলো পর্যাপ্ত নয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ সভাপতি এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, 'এসব যন্ত্রপাতির সুফল বেশি পেতে হলে আমাদের বন্দরে স্লট আরও বাড়ানো দরকার। স্লট বসানো হলে আমরা এসব যন্ত্রপাতির ব্যবহার অনেক হারে বাড়াতেও পারবো।'

নতুন ৩টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে শিগগিরই অপারেশন শুরু করতে বলছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপো এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: নুরুল কাইয়ুম জানান, '২০ থেকে ২২ শতাংশ কন্টেইনারের বাৎসরিক উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। এটার মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারছি যে, দেশের অর্থনীতি অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচল আছে।'

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অ্যাডমিন ও প্ল্যানিং সদস্য মো: জাফর আলম বলেন, 'নতুন গ্যান্ট্রি ক্রেন নামানো প্রক্রিয়া অনেক জটিল ছিল আমাদের জন্য কিন্তু আমরা তা সফলভাবে নামাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশা করছি আগামী এক মাসের মধ্যে আরো ৩টি গ্যান্ট্রি ক্রেন আমাদের বন্দরের সাথে যুক্ত করতে পারবো।'

আধুনিক যন্ত্রপাতি যোগ করার পাশাপাশি প্রস্তাবিত বে টার্মিনালসহ আরও কয়েকটি টার্মিনাল বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

উল্লেখ্য, জাহাজের দুইটি ক্রেন দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ২৫ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা যায়। গ্যান্ট্রি ক্রেনে সেই একই সময়ে কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা যায় ৪৫ টিইইউএস। অপারেটর কিছুটা দক্ষ হলে এই ৪৫ টিইইউএসকে ৫০ টিইইউএসসে উন্নীত করা যায়। এতে করে বারোশ’ টিইইউএস কন্টেনার নিয়ে আসা একটি জাহাজ থেকে জাহাজের ক্রেন ব্যবহার করে কন্টেনার নামাতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে সময় দিতে হয় কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা। গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে সেই একই জাহাজের কন্টেনার হ্যান্ডলিং করতে সময় লাগে ২৬ ঘন্টার কিছু বেশি।

একই ভাবে জাহাজটিতে কন্টেনার উঠানোর সময়ও একই ধরনের সময় লাগে। ফলে মাত্র ১২শ’ টিইইউএস কন্টেনার নিয়ে আসা একটি জাহাজের ক্ষেত্রে জাহাজের ক্রেন এবং কী গ্যান্ট্রি ক্রেনে হ্যান্ডলিং এ সময় সাশ্রয় হয় ২২ ঘন্টা বা প্রায় একদিন। এতে জাহাজটির অবস্থানকাল পঞ্চাশ শতাংশ উন্নীত করা সম্ভব হবে। যা দেশের আমদানি রপ্তানি খাতকে কোটি কোটি টাকার গচ্ছা দেয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। আবার মাত্র দুইদিনের মধ্যে একদিন সাশ্রয় হওয়া মানেই পঞ্চাশ শতাংশ গতিশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া।