DBC News
ট্যানার্স ও আড়তদারদের কারণে চামড়ার দরপতন

ট্যানার্স ও আড়তদারদের কারণে চামড়ার দরপতন

এ বছর কোরবানির পশুর চামড়ার ব্যাপক দরপতনে, একে অন্যকে দুষছেন আড়তদার এবং ট্যানারি মালিকরা।  তবে চামড়া বেচাকেনায় এমন বিশৃঙ্খলায় দায় আছে দুপক্ষেরই।  কেননা, বাড়তি লাভের আশায়, অনেক কম দামে চামড়া কিনেছেন। আর দর কমার অপেক্ষায় থেকে, অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক কম চামড়া সংগ্রহ করেছেন ট্যানারি মালিকরা।

চামড়ার দাম না পাওয়া এমন হাহাকার ছিলো দেশজুড়েই।  অথচ এমন পরিস্থিতি এড়াতে কোরবানির আগেই কাঁচা চামড়ার দাম ঠিক করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ ছিলো প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। ওই সুপারিশ না মেনে ব্যবসায়ীদের আবদার অনুযায়ী, ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ঠিক করা হয়।

আড়তদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দরদাম করার কৌশলের আড়ালে, সময় ক্ষেপণ করেছেন। দীর্ঘ সময় লবনবিহীন থাকার ফলে চামড়ায় হেয়ার স্লিপ দেখা দিয়েছে, এ অজুহাতে অনেক কমে চামড়া কিনেছেন তারা।

কত কমে কিনেছেন তা পরিস্কার হয় রাজধানীর একটি মাদ্রাসায় চামড়া বিক্রির হিসেব দেখে। এক হাজার ৮০০টি গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি ৭৩৬ টাকায়। গেলবার ছিলো ১ হাজার ৩'শ টাকারও বেশি।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন এর চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ এবারের চামড়া বাজার সম্পর্কে বলেন, 'এখানে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিৎ হয়নি।' 
 
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক হাজী টিপু সুলতান বলেন, 'ট্যানারি মালিকদের আমরা অনেকবার অনুরোধ করেছি, আমাদের দু’চার দিন আগে টাকা দিলে আমরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারি।'  

একে অন্যকে দোষ দিলেও চামড়ার দাম কমলে, দুই পক্ষই লাভবান হয়। কেননা, যত কমে চামড়া কেনা যাবে, ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করে, আড়তদারদের লাভের অংকটা তত বাড়বে। অন্যদিকে ট্যানারি মালিকরাও সরাসরি চামড়া সংগ্রহ করেন। তাই দর কমলে, তাদেরও লাভ।  তাই এ বছর কোরবানির প্রথম তিন দিনে অন্যান্যবারের তুলনায় অনেক কম চামড়া কিনেছেন ট্যানারিরা। কেননা, দেরিতে কিনলে, দাম আরও কমবে। 

বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম ট্যানার্স ও আড়তদারদের সম্পর্কে বলেন, 'তারা চামড়া না কিনে বাজার ডাউন করে দিয়েছে, তবে এখন তারা চামড়া কিনবে।' 

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন এর  চেয়ারম্যানশাহীন আহমেদ বলেন, 'আসলে ওইভাবে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনা শুরু করেনি। তারা চামড়া সংগ্রহ শুরু করবে আগামী সপ্তাহ থেকে।'   

অথচ রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো ৪২টি প্রতিষ্ঠানকে চামড়া কিনতে ৬০১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এই টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করার হয়েছে, বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ভুলুয়া ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'সাভারে আমরা এখনো পরিপুর্ণভাবে ফ্যাক্টোরি দাঁড় করাতে পারিনি। এখন আমাকে চামড়ার টাকা থেকেই হোক আর হাওলাদ করেই হোক ইনভেস্ট করতে হচ্ছে।' 
 

এসব কারণে, বিক্রি না হওয়া অন্তত ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাঁচারের আশঙ্কা।

আরও পড়ুন

‘হাসিনা, এ ডটারস টেল’, মুক্তি শুক্রবার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে ডকু ড্রামা ‘হাসিনা, এ ডটারস টেল’। ১৬ই নভেম্বর তথ্যচিত্রটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের চারটি সিনেমা হলে মুক্...

প্রশাসন ও ইকোনমিক ক্যাডার একীভূত করে গেজেট

প্রশাসন ক্যাডার ও ইকোনমিক ক্যাডারকে একীভূত করে গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।  প্রজ্ঞাপন...

করদাতার সংখ্যা সন্তোষজনক নয়: অর্থমন্ত্রী

উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করদাতার সংখ্যা সন্তোষজনক হারে বাড়ছে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে সপ...

সংসদ সদস্য হতে চান শীর্ষ ব্যবসায়ীরা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান বেশ দেশের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী। নিজের উদ্যমী মানসিকতা আর পরিশ্রম দিয়ে সফল হওয়া এসব ব্যবসায়ীর স্বপ্ন সংসদ সদস্য হিসে...