DBC News
রাখাইন অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যা; জাতিসংঘের প্রতিবেদন

রাখাইন অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল গণহত্যা; জাতিসংঘের প্রতিবেদন

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী 'গণহত্যার অভিপ্রায়' থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করছে জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।

আইন প্রয়োগের নামে ভয়ঙ্কর ওই অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং সিনিয়র পাঁচ জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করা হয়েছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে। 
 
সেখানে বলা হয়েছে, 'মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সু চির বেসামরিক সরকার রোহিঙ্গাদের প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারকে উসকে দিয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ আলামত ধ্বংস করেছে এবং সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সম্প্রতি, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নিধনযজ্ঞের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচ দেশের ১৩২ জন আইন প্রণেতা। বিবৃতিদাতা আইন প্রণেতারা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনস, সিঙ্গাপুর, ও পূর্ব তিমুরের পার্লামেন্ট সদস্য। 

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, 'রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে মিয়ানমার সরকার এবং দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর চাপ বাড়াতে হবে।'

১৩২ এমপির তরফে কথা বলেন, মালয়েশিয়ার জোট সরকারের রাজনীতিবিদ চার্লস সান্তিয়াগো। তিনি বলেন, 'নিজের অপরাধ নিয়ে মিয়ানমার তদন্ত করতে অক্ষম ও অনিচ্ছুক। কাজেই আমরা এমন একটি স্তরে রয়েছি যে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।' 

এছাড়া রোহিঙ্গা নির্যাতনকে ঘৃণ্য জাতিগত নিধন হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প বলেন, 'এই হত্যাকাণ্ডের জন্য যারা দায়ী যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই তাদেরকে দোষী হিসেবে গণ্য করবে।' তিনি আরও বলেন, এক বছর আগে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর ঘৃণ্য জাতিগত নিধন চালায়। দেশটিতে গণতন্ত্রের সুফল পেতে হলে সেনাবাহিনীকে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।