DBC News
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা নেই

গোপালগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী তৎপরতা নেই

গোপালগঞ্জ-৩ আসনে বরাবরের মতো এবারও নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো তৎপরতা নেই। কারণ এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন।  প্রতিবারই এই আসন থেকে রেকর্ড ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। আর অন্য প্রার্থীরা বেশিরভাগ সময়ই জামানত হারান।

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নিয়ে গোপালগঞ্জ-৩ আসন। টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর তাঁর কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্ম।  বঙ্গবন্ধুর সমাধিও এই টুঙ্গিপাড়াতেই।

১৯৮১ সালে দেশের ফেরার পর ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রথম নির্বাচন করেন শেখ হাসিনা। সেই থেকে ছয়বার তিনি ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

এই আসনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রার্থীরা বরাবরই জামানত হারিয়েছেন। গত নির্বাচনে শেখ হাসিনা পেয়েছিলেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৮ ভোট।  নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির এ. জেড অপু শেখ পেয়েছিলেন ২ হাজার ৪৩০ ভোট।

 
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি সোলায়মান বিশ্বাস বলেন, 'শেখ হাসিনা যত দিন আছেন, এই টুঙ্গিপাড়া থেকে তিনি নির্বাচিত হবেন।' 

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী এই জায়গা থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। দেশের উন্নয়ন করেছেন। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন একটা মডেল রাষ্ট্র।' 

কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যত দিন জীবীত আছেন, তত দিন আমরা তাকেই ভোট দেবো। তাঁর কোনো বিকল্প আমাদের মনেও আসে না।'

এই আসনে বিএনপি-জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের রাজনৈতিক তৎপরতা নেই বললেই চলে। তারপরও নাম রক্ষায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে থাকে বিএনপি।

বিএনপির কোটালীপাড়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার বলেন, 'বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা এখানে প্রার্থী দেবো।' 

স্থানীয়রা বলছেন, আগামীতেও শেখ হাসিনা যতবারই এই আসনে প্রার্থী হবেন, ততবারই তাঁকে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে বিজয়ী করা হবে। ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ; তাই ৮৬'র পর ওই দুই নির্বাচনে প্রার্থী হননি আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।