DBC News
পুঁজি সংকটে চামড়া কিনতে পারছেন না আঞ্চলিক ব্যবসায়ীরা

পুঁজি সংকটে চামড়া কিনতে পারছেন না আঞ্চলিক ব্যবসায়ীরা

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচা চামড়ার আড়ত নাটোরের চকবৈদ্যনাথ বাজারে এবার খুব একটা আমদানি নেই কাঁচা চামড়ার। পুঁজি সংকটের কারণে ঠিকমত চামড়া কিনতে পারছে না নাটোরের চামড়া ব্যবসায়ীরা। ট্যানারী মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পেয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা। আর বেশি দামে চামড়া কিনে লোকসানে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, ঢাকার বাজারে কম দামের সুযোগে আড়ত মালিকরা কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছেন। 

এরমধ্যেও গ্রাম থেকে চড়া দামে চামড়া কিনেছেন অনেক ব্যবসায়ী। এখন আড়তে দাম না পেয়ে হতাশ তারাও। তাই বুঝেশুনে ট্যানারী নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার পরামর্শ দিয়েছেন নাটোর চামড়া ব্যাবসায়ী গ্রুপ এর সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান হিরু। নাটোরের চামড়া আড়তগুলো ১০ লাখ পিস গরু এবং ৫ লাখ পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে যাওয়ায় এবার অনেক কম চামড়া কিনছেন ট্যানারি মালিকরা। ফলে সাভার ট্যানারিতে ঈদের দ্বিতীয় দিনে কাঁচা চামড়া ঢুকেছে মাত্র ৪/৫ ট্রাক। ঈদে শ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় অধিকাংশ ট্যানারিই ছিলো বন্ধ। ট্যানারি মালিকরা বলছেন, সাভার চামড়া শিল্প নগরী শতভাগ প্রস্তুত না হওয়ায়, বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের চামড়ার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে সারা বছর অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে অধিকাংশ চামড়া। 

সাভার চামড়া শিল্প নগরীর রাস্তার বেহাল দশা, কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধণাগার-সিইটিপি শতভাগ প্রস্তুত না হওয়া আর ডাম্পিং ইয়ার্ড না থাকার কারণে চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার হারানোর আশঙ্কাও করছেন ট্যানারি মালিকরা। অভিযোগ আছে, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলেছে। যে কারণে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভাড়া করে চামড়া নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

এবার ঢাকায় লবনযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫-৫০ টাকা নির্ধারণ হয়। আর ঢাকার বাইরে নির্ধারণ করা হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। অন্যদিকে সারা দেশে খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় সংগ্রহ করার কথা। অথচ গতবছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় সংগ্রহ করেন। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকায় সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে, ঢাকার বাজারে কম দামের সুযোগ নিয়ে কোরবানির কাঁচা চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় পুরোটাই অর্জন করেছেন আড়ত মালিকরা। তবে, ঈদের তৃতীয় দিনে এসে আগের দিনের চেয়ে মানভেদে চামড়ার দাম কিছুটা বেড়েছে। ঢাকার লালবাগের পোস্তার আড়তে শুক্রবার সকালেও কাঁচা চামড়া বিক্রির জন্য দাম নিয়ে চলে দরকষি।  তবে গত দুদিনের চেয়ে আজ দাম বেশি। মান ভেদে চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা থেকে ১৪শ টাকা পর্যন্ত।

রাজধানীর বাইরে থেকে লবন দেওয়া চামড়া আসতে দেখা যায়নি শুক্রবার। তবে, এরই মধ্যে ব্যবসায়ীরা তাদের সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছেন বলে জানান বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কীন মার্কেট এসোসিয়েশন এর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।