DBC News
গরম মসলার বাজার ঠাণ্ডা

গরম মসলার বাজার ঠাণ্ডা

কোরবানি ঈদের আগে 'গরম মসলার' বাজার সাধারণত গরম হয়ে উঠে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। হঠাৎ করেই ঠাণ্ডা গরম মসলার বাজার। বাজারে ক্রেতা কম তাই মসলার বাজার চড়েনি এবার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আর কয়েকটি জেলায় হঠাৎ বন্যার কারণেই উত্তাপ নেই মসলার বাজারে।

সারা বছর যে পরিমাণে এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি আর জিরা বিক্রি হয়, শুধু কোরবানি ঈদেই বিক্রি হয় তার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি।

তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। কোরবানি ঈদের এক সপ্তাহও বাকি নেই। এই সময়ে পাইকারী আর খুচরা বিক্রেতাদের যেখানে দম ফেলারও সময় থাকে না সেখানে প্রায় ক্রেতাশুন্য মসলার বাজার। তার উপর আবার গত এক সপ্তাহে কমেছে সব প্রকারের মসলার দাম।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় মসলার পাইকারী বাজার মৌলভীবাজারে গত সাত দিনে এলাচের দামই কমেছে কেজিতে ২শ' টাকা। বিক্রি হচ্ছে মান ভেদে ১৫শ' থেকে ১৮শ' টাকা কেজি। অন্য দিকে লবঙ্গ, দারুচিনি আর জিরার দামও কমেছে ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। লবঙ্গ ৯শ', দারুচিনি ২শ' ৬০ আর জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩শ' ২০ টাকা থেকে ৪শ' টাকায়।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারেও কমেছে সব ধরণের মসলার দাম। এ বাজারেও কেজিতে ২শ' টাকা কমেছে এলাচের দাম। বিক্রি হচ্ছে ১৬শ' ৫০ টাকা থেকে ১৮শ' টাকা কেজিতে। অন্য দিকে লবঙ্গ ৯শ' ৮০, দারুচিনি ৩শ' থেকে ৩শ' ২০ আর জিরা কিনতে হচ্ছে ৩শ' ৬০ টাকা থেকে ৪শ' টাকা কেজিতে।

আমদানিকারকরা বলছেন ছাত্র আন্দোলনে এক সপ্তাহ রাজধানী অচল ছিল। পরিবহণ র্ধমঘটের কারনেও জেলা থেকে ক্রেতারা আসতে পারেনি।

শুধু মসলাই নয় কেজিতে ৫ টাকা কমেছে দেশি পেঁয়াজের দাম। বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। সহনীয় আছে রসুন আর আদার দামও। কোনবানি ঈদ উপলক্ষ্যে এরই মধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে অনেকে। তাই বাজারগুলোতে ক্রেতা কম।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও কমেছে সবজির দাম। আলু, পটল, করোলা, কাকরোল ও ঝিঙেসহ অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। সবজির মতো কমেছে ডিমের দামও। ডজনে কমেছে ১০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা ডজন।

ক্রেতা কম থাকায় বাজারে মাছের সরবরাহও কম। ইলিশ কেনা যাচ্ছে প্রতিটি ২শ' থেকে হাজার টাকায়। এছাড়া রূপচাঁদা, পাবদা, টেংরা, কৈ, শিং আর মাগুর মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।

মাংসও বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। গরুর মাংস ৫শ' আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭শ' ৫০ টাকা কেজিতে।