DBC News
কেরালায় অতিবৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ২৯ জন নিহত

কেরালায় অতিবৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ২৯ জন নিহত

ভারতের কেরালা রাজ্যে টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় খুলে দেয়া হয়েছে ইডুক্কি বাঁধের পাঁচটি গেইট।

ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রাজ্যের বেশিরভাগ জেলায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসে অনেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইদুক্কি জেলা। সেখানে একই পরিবারের ৫ জনসহ ১১ জন, মালাপ্পুরমে ৬, কোঝিকোড়ে ১, কুন্নুরে ২ এবং ওয়েল্যান্ডে ৩ জনসহ মোট ২৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

এনডিটিভি জানায়, রিজার্ভারের পানি লেভেল ২৪০০ ফুট অতিক্রম করায় ইডুক্কি বাঁধ এলাকায় তিন মাত্রার সতর্কতা জরি করা হয়। পরে খুলে দেয়া হয় বাঁধের পাঁচটি গেইট। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ছয়শ মানুষকে স্থানান্তর করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে প্রায় ৫০০ ত্রাণ কেন্দ্র। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের পাশাপাশি দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নিচ্ছে।

বন্যা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। গত অর্ধশতাব্দীর মধ্যে এবারই কেরালায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানান কেরালার ইউনিয়ন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, এবারের বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণ ও বন্যায় ভারতজুড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ছয় রাজ্যে এখন পর্যন্ত ৫৩৭ জনের বেশি নিহত হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ইমারজেন্সি রেসপন্স সেন্টার (এনইআরসি) জানায়, চলতি বর্ষায় বৃষ্টি ও বন্যায় মহারাষ্ট্রে ১৩৯ জন, কেরালায় ১২৬ জন, পশ্চিমবঙ্গে ১১৬ জন, উত্তর প্রদেশে ৭০ জন, গুজরাটে ৫২ জন ও আসামে ৩৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্লাবিত হয়েছে মহারাষ্ট্রের ২৬ জেলা, পশ্চিমবঙ্গের ২২ জেলা, আসামের ২১ জেলা, কেরালার ১৪ জেলা ও গুজরাটের ১০ জেলা। উত্তর প্রদেশের বিশাল এলাকাও বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে।