DBC News
সড়ক পরিবহণ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

সড়ক পরিবহণ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রেখে সড়ক পরিবহণ আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার, সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান, মন্ত্রি পরিষদ সচিব শফিউল আলম। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন,'মোটরযান দুর্ঘটনায় আহত বা প্রাণহানি হলে পেনাল কোড অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত থাকে যে, পেনাল কোডে যা কিছু থাকুক না কেন অবহেলাজনিত কারণে গুরুতরভাবে আহত বা প্রাণহানি হলে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এ সংক্রান্ত আইনে আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বা প্রাণহানির জন্য সবোর্চ্চ সাজা ছিল তিন বছরের কারাদণ্ড। এখন সব শ্রেণির সর্বসম্মত মত অনুযায়ী পাঁচ বছর করা হয়েছ, অর্থদণ্ডের বিষয়ে লিমিট দেয়া নেই।'

অনুমোদিত আইনে ইচ্ছাকৃত হত্যা প্রমাণিত হলে চালকের ফৌজদারি আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেপরোয়া গাড়ি চালনায় দুর্ঘটনার সাজা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। অপরাধ করলে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে চালকের পয়েন্ট কাটা যাবে। ১২ পয়েন্ট হারালে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া মোটরযান চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাখা হয়েছে অষ্টম শ্রেণি পাশ। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতি পূরণে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করার কথা বলা হয়েছে। 

সড়ক পরিবহণ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম ব্রিফিংয়ে বলেন, 'তদন্তে দুর্ঘটনা যদি উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে প্রমাণিত হয় তাহলে তা দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। আর চালকের কারণে প্রাণহানি হয়ে থাকলে ৩০৪(বি) ধারা অনুযায়ী সাজা দেয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তাই ঠিক করবেন অপরাধ কোন ধারায়।'

মন্ত্রিসভা পর্যবেক্ষণসহ নীতিগত অনুমোদন দেয়ার পরও, সড়ক পরিবহন আইনের খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পড়ে ছিল প্রায় দেড় বছর। সহপাঠীদের হত্যার বিচার এবং নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই দ্রত ভেটিং শেষ করে আইন মন্ত্রণালয়। 
১৯৮৩ সালের 'মোটর ভেহিকেল অর্ডিন্যান্সের' বদলে 'সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক আইনের' প্রস্তাব করা হয় ২০১১ সালে। সেই প্রস্তাবের পর্যবেক্ষণে সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৭-এর খসড়া করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

কর্মবিরতিতে অচল বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারতের অংশে মালামাল ওঠানামা করার সময় বকশিস নেয়াসহ পাঁচদফা দাবিতে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে।এতে বেনাপোল স্থলবন্দ...

জিডিপি প্রবৃদ্ধির সুফল পাচ্ছেনা অর্থনীতি; বাড়ছেনা কর্মসংস্থান

টানা ৩ অর্থবছর ৭ শতাংশেরও বেশি হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাড়ছে মাথাপিছু আয়ও। তবে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না। আবার প্রকট হচ্ছে ধনী-গরীবের আয় ও স...

বিচারকের প্রতি দুই আসামির অনাস্থা

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় 'ন্যায় বিচার' না পাওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামানের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন, মামলার দুই আসামি জিয়াউল...

'খালেদার অনুপস্থিতিতেই চলবে বিচার কাজ'

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেই জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ চলবে বলে আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান এই...