DBC News
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ; অচল ঢাকা

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ; অচল ঢাকা

রাজধানীতে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে নৌ পরিবহণ মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এই প্রতিবাদ ও অবরোধ কর্মসূচিতে কার্যত ঢাকার সড়কগুলো অচল হয়ে পড়ে।

সকাল থেকেই ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ১১টায় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে জড়ো হয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ  করতে থাকেন। মতিঝিলে নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দেন।

ওদিকে, মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে, বিক্ষোভ করছেন ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ কারনে মিরপুর ১ থেকে ১০ নম্বর সেকশনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে নিশ্চিত করেছেন ট্রাফিক পুলিশের পশ্চিম বিভাগের সহকারী কমিশনার নজরুল ইসলাম।

বিক্ষোভের সময় প্রায় ৪০টি বাস ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া হিমাচল পরিবহণের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় হয়।এ সময় শিক্ষার্থীদের ঠেকাতে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থী মামুন হোসেন বলেন, 'আমরা ন্যায়বিচার চাই। আমাদের বন্ধুরা এভাবে মারা যাবে, আর আমরা কিছু করবো না তা হতে পারে না। আমরা আমাদের বন্ধুদের এভাবে মরতে দিতে পারি না।'

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, নৌ মন্ত্রীকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। বাসচাপায় শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তার প্রতিক্রিয়া অমানবিক।' দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণাও দেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, উত্তরা হাই স্কুল এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। এছাড়া ধানমণ্ডি আইডিয়াল, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি, সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে তাদের দাবির পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টায় রেডিসন হোটেলের সামনের রাস্তায় অবস্থান নিয়ে আধা ঘন্টা বিক্ষোভ করেন। এছাড়া মতিঝিল, ফার্মগেট ও নাবিস্কোতেও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। 

দুপুরের দিকে, উত্তরায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহসড়কে কয়েক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

দুই শিক্ষার্থী নিহতের জের ধরে টানা তৃতীয় দিন মিরপুর থেকে উত্তরা, গুলশান ও বাড্ডা রুটের যান চলাচল করছে না। ঢাকার ব্যস্ততম রাস্তা কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া ইসিবি চত্তরে জড়ো হয়ে মিরপুর সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলেও পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে কালশীর দিকে পাঠিয়ে দেয়। 

গত রবিবার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজিব ও একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম নিহত হন। এতে আহত হন অারও ১৪ জন শিক্ষার্থী।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিমানবন্দর সড়কে জড়ো হয়ে এ কলেজের শিক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ করে। এদিন মিরপুর ও ভাটারায়ও বিক্ষোভ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভের সময় তারা বেশ কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। 

আরও পড়ুন

লন্ডন থেকে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই দিনের যাত্রা বিরতি শেষে রব...

শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের কাজ

উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য ১০টি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি হচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহার। পাশাপাশি আর্থ সামাজিক ১৯টি খাতে চলমান অগ্রযাত্রার চিত্রও তুল...

'আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকেই এমপিওভুক্ত করা হবে'

আগ্রহী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই এমপিওভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বুধবার দুপুরে, সচিবালয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের...

মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ সব কোটা বাতিলের সুপারিশ করে প্রতিবেদন

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোনো কোটা না রাখার সুপারিশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কোটা পর্যালোচনায় গ...