DBC News
১০ বছরে রেমিটেন্স বেড়েছে সাড়ে ৬৪ শতাংশ

১০ বছরে রেমিটেন্স বেড়েছে সাড়ে ৬৪ শতাংশ

গেল ১০ বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে সাড়ে ৬৪ শতাংশ। এ সময়ে প্রবাসে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ বাংলাদেশির। বড় অঙ্কের এই শ্রমশক্তি প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপাজর্নের প্রায় পুরোটাই পাঠান দেশে থাকা প্রিয়জনের কাছে। আর তাদের কষ্টার্জিত অর্থেই বাংলাদেশ পাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার বড় রিজার্ভ। যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত।

দেশে চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থানের অভাব থাকায় অনেকেই পাড়ি জমাচ্ছেন প্রবাসে। পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরের প্রবাস জীবনে অনিশ্চয়তা থাকলেও প্রিয়জনকে সুখে রাখার স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে পাড়ি জমান তারা।

২০০৯ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গেল ১০ বছরে বাইরে গিয়েছেন প্রায় ৫৬ লাখ বাংলাদেশি। যার বড় অংশই আছেন মধ্যপ্রাচ্যে।  আর গেল বছরই প্রবাসে গিয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি কর্মী। এই দৌড়ে পিছিয়ে নেই নারীরাও।

দশ বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে সাড়ে ৬৪ শতাংশের বেশি। শুধু ব্যাংকিং চ্যানেলেই ১০ বছরে অর্থ এসেছে গড়ে ১৩শ কোটি ডলার।  ব্যাংকাররা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা বাড়লে এই অংক প্রায় দ্বিগুণ হতো।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার বিষয়েয ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া জানান, আমরা চেষ্টা করেছি প্রথম থেকেই ব্যাংকের কর্মকর্তারা সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্নদেশে যেয়ে কিভাবে বৈধভাবে টাকা পাঠানো যায়। সেই সঙ্গে হুন্ডিসহ অবৈধ মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষতির দিক গুলোও কর্মকর্তারা তাদের কাছে তুলে ধরেন।

বড় অংকের রেমিট্যান্স আয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রেমিটারদের ভূমিকাই বেশি। তাই ছোট অঙ্কের রেমিটারদেরও সরকারি প্রণোদনা দেয়া দরকার বলে জানান সেন্টার ফর এনআরবি'র চেয়ারপার্সন শেকিল চৌধুরী।

তিনি আরও জনান, সমস্যাটা হয় যখন হাতের কাছে বৈধভাবে টাকা পাঠানোর পথটা তারা না পান। আর বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর ওপর ইন্সেনটিভ দিতে পারলে রেমিট্যান্স আরও বাড়ত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

দেশের সবগুলো ব্যাংক পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে রেমিট্যান্স সংগ্রহের পথনকশা তৈরি করলে সেটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে কাজে লাগানো আরো সহজ হবে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।