DBC News
মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন কন্ঠ সৈনিক সুজয় শ্যাম

মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন কন্ঠ সৈনিক সুজয় শ্যাম

১৯৭১ সালে রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবীত করেছে যার সুর, তিনি আজ লড়ছেন ক্যান্সারের সঙ্গে। চিকিৎসার জন্য শেষ সম্বল পৈত্রিক বাড়িটিও বিক্রি করতে হয়েছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা সুজেয় শ্যামকে। তার পরিবারের পক্ষে ক্যান্সারের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে জনপ্রিয় এই সংগীত পরিচালকের পরিবার।

একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মানে ভূষিত এই শিল্পী দীর্ঘদিন ধরে চোখসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার শরীরে ধরা পড়েছে ক্যান্সার।

সুজেয় শ্যাম জানান, শারীরিক পরীক্ষার জন্য ভারতে যান তিনি। প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা শেষে ডাক্তাররা তাঁর শরীরে ক্যান্সারের আশংকা করেন। এ ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য ডক্তাররা তাঁকে এমআরআই করার পরামর্শ দেন। কিন্তু সে সময় প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁর কাছে না থাকায় তিনি চিকিৎসা না করেই দেশে ফিরে আসেন। পরে ঢাকায় ফিরে এসে এমআরআই করালে তাঁর প্রোস্টেটে টিউমার ধরা পড়ে। টিউমার পরীক্ষা করে রিপোর্টে ক্যান্সার ধরা পড়ে।

অর্থবিত্তের পেছনে না ছুটে আজীবন দেশপ্রেম আর সংগীত সাধনাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে নেয়া এই শিল্পীর চিকিৎসা চলছে শেষ সম্বল পৈত্রিক বাড়ি বিক্রির টাকা আর পদক থেকে প্রাপ্ত সম্মানি দিয়ে।

সুজেয় শ্যাম বলেন, 'আমিতো সারাজীবন চাকরীও করিনি, সরকারের কাছ থেকে কোন ভাতাও পাইনা।' মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর সনদ পাওয়ার কথা জানান এই কন্ঠযোদ্ধা।

তবে এজন্য তার কোন দুঃখ নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বাড়ির দুই ভাইয়ের অংশ থেকে নিজের অংশ বিক্রি করেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। 

রণাঙ্গণের এই কণ্ঠযোদ্ধা কারও কাছে সাহায্য নিতে অস্বস্তিবোধ করলেও তাঁর কন্যা জানালেন, এই বিপুল চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য তাদের পরিবারের নেই।

সুজেয় শ্যামের মেয়ে রূপ মঞ্জুরী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি সাহায্যে এগিয়ে আসেন তাহলে তাদের জন্য চিকিৎসা চালানো সহজ হবে।

রাষ্ট্রীয় সহায়তায় হার না মানা এই কন্ঠযোদ্ধা ক্যান্সারকে জয় করে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এই প্রত্যাশাই করছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

২০১৪ সালে স্বধীনতা দিবসে শুদ্ধ সুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এই আয়োজনও করেন সুজয় শ্যাম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর প্রথম গানের সুরও তিনিই করেন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের তাঁর সুর করা গানগুলো হল, মুক্তির একই পথ সংগ্রাম, ওরে শোনরে তোরা শোন, রক্ত চাই রক্ত চাই, আজ রণ সাজে সাজিয়ে বিষাণ উল্লেখযোগ্য।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই শিল্পী ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক পান। একই বছর পান স্বাধীনতা সম্মাননা ও ভারত গৌরব সম্মাননা। সবশেষ ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন এই কন্ঠযোদ্ধা।

আরও পড়ুন

‘যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ার আহ্বান’

    আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে পঁাচদিনের সফর...

ডোপ টেস্টের তথ্য গোপন:ডিজিএম গ্রাউন্ডেড

  আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী উড়োজাহাজ নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়। এবার প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন ফ্লাইটের আগমুহূতের্ ডোপ টেস্টে ধরা পড়েছে এক কে...

উৎসব মুখরতায় মধুপূর্ণিমা পালিত

  আজ মধু পূর্ণিমা। এ দিনটি বৌদ্ধদের কাছে স্মরণীয় ও আনন্দ-উৎসবমুখর পুণ্যময় একটি দিন।  গৌতম বুদ্ধের স্মরণে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্য ও উৎসব মু...

'শ্রাবণ ট্র্যাজেডি' নাটকের মঞ্চায়ন

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের ইতিহাস অবলম্বনে রচিত নাটক 'শ্রাবণ ট্র্যাজেডি'।  েসা...