DBC News
দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমছে

দেশে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমছে

দেশে মাতৃমৃত্যুর হার দিন দিন কমে আসছে। ২০০৭ সালে যেখানে মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ছিল লাখে ২৯৮ জন, এখন তা নেমে এসেছে ১৭৬ জনে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৭০ জনে নামিয়ে আনতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভের ২০১৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর সন্তান জন্মদিতে গিয়ে মারা যাচ্ছেন লাখে ১৭৪ জন নারী। যা ১৯৮৬-৯০ সালে ছিলো ৫৭৪ জন, ৯১-৯৫ সালে ছিলো ৪৮৫ জন, ১৯৯৮-২০০০ সালে ৩২২ জন, ২০০৭ সালে ২৯৮ জন, ২০১০ সালে ১৯৮ জন এবং ২০১৫ সালে ১৭৬ জন। অর্থাৎ ১৯৯০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে ৭০ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য ২০২২ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যু লাখে ১০৫ এবং ২০৩০ সালের মধ্য ৭০ জনের নীচে নামিয়ে নিয়ে আনা। এ লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।

শিশু ও মাতৃমৃত্যুহার নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফাতেমা আশরাফ জানান, সরকারি চিকিৎসা কর্মী ও সেচ্ছাসেবকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা ও সেবা প্রদান করেন। এছাড়াও সরকারি সহায়তায় প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। যারা এই কমিউনিটি সার্ভিসটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তারা খুব দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী।

এ সময় ফাতেমা আশরাফ আরও জানান, আমরা সবাই মিলে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমানোর জন্য যদি একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি তাহলে মৃত্যুহার আরও কমানো সম্ভব। আর যেসব ক্ষেত্রে মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব সেসব ক্ষেত্রে আমরা সবাই মিলে শিশু বা মায়ের মৃত্যু ঠেকাবো। কারন জানলেই তা ঠেকানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ফাতেনা আশরাফ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে ১৯৯০ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার ছিলো হাজারে ৯০.৬ জন। ২০১৬ সালে তা ৪১ জনে নেমে এসেছে। ২৬ বছরে শিশু মৃত্যুর হার ৫১ শতাংশ কমলেও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.২ অর্জনের জন্য বাংলাদেশে পাঁচ বছরের কমবয়সী শিশু মৃত্যুহার ৪৬ শতাংশে এবং নবজাতকের মৃত্যুর হার ৫৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডাইরেক্টর ডা. সুলতান মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান, ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার, স্ক্যানো এবং হেল্পিং বেবিস বেল্ট এসবের সর্বোচ্চ ব্যবহার যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে নবজাতকের মৃত্যু আমরা ১২ শতাংশ বা তারও নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব।