DBC News
ভল্টে রাখা স্বর্ণ নিয়ে প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ: শুল্ক গোয়েন্দা

ভল্টে রাখা স্বর্ণ নিয়ে প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ: শুল্ক গোয়েন্দা

ভল্টে রাখা স্বর্ণে অনিয়মের অভিযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক অস্বীকার করলেও, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর মনে করছে, তাদের গোপনীয় প্রতিবেদন বস্তুনিষ্ঠ। তদন্তে উদঘাটিত তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জানিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও ৬ মাসেও কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

জব্দ করা স্বর্ণ ও অলংকার জমা হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে। নিলাম না হওয়া পর্যন্ত স্বর্ণ দেখভালের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে অনিয়ম পায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের আশি শতাংশ বিশুদ্ধ সোনার চাকতি ও আংটির জায়গায় এখন আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। এছাড়া ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট। ভল্টে স্বর্ণ বদলে যাওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে তিন কোটি টাকার।

তবে, প্রতিবেদনের এসব তথ্যকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রায় একইসুরে কথা বললেন অর্থ প্রতিমন্ত্রীও।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টের ৬ স্তরের নিরাপত্তা ভেদ করাটা অসম্ভব। যন্ত্রের ত্রুটি আর বাংলা ও ইংরেজি লেখার ভূলের কারণে হিসাবের সামান্য গড়মিল দেখা দিয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. শহিদুল ইসলাম জানান, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িতদের খুঁজে বের করার দাবি শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতে একটি জাতীয় দৈনিকে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সংবাদ প্রতিবেদনে ভল্টের সোনা নিয়ে অভিযোগটি আলোচনায় আসে। ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়েছে। জমা দেয়ার সময় যা ৮০ শতাংশ বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, দুই বছর পর তা পরীক্ষা করে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ সোনা পাওয়া গেছে। আর ২২ ক্যারেটের সোনা হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।